প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় জনগণের ক্রমবর্ধমান আস্থাহীনতার মধ্যেই পাকিস্তানের লাহোরে চালু হয়েছে ন্যায়ভিত্তিক শরিয়া আদালত। ধর্মীয় সংগঠনগুলোর প্রভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দারুল কাজা শরিয়া নামের এ আদালত চালু করেছে জামাতুদ দাওয়া নামের একটি সংগঠন। শরিয়া আইনের ভিত্তিতে ‘ন্যায়বিচার’ নিশ্চিত করতে প্রদেশটিতে এ আদালত স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি।
জামাতুদ দাওয়া’র মতো একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের আদালত প্রতিষ্ঠার বিষয়টি পাকিস্তানে সংবিধানের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন দেশটির আইন বিশেষজ্ঞরা। তবে জামাতুদ দাওয়া বলছে, তারা শুধু শরিয়ার আলোকে সালিশ পরিচালনা করবে।
জামাতুদ দাওয়া পাকিস্তানের কোনও নিষিদ্ধ সংগঠন নয়। তারা নানা সামাজিক ও দাতব্য সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত। বিভিন্ন শহরে তাদের বহু দাতব্য স্কুল ও হাসপাতাল রয়েছে।
এই আদালতের এক সমনে দেখা গেছে, তাতে দারুল কাজা শরিয়া, জামাতুদ দাওয়া পাকিস্তান এবং শরিয়াভিত্তিক শালিসি আদালত লেখা রয়েছে।
এর আগে গত মাসে শরিয়া আইনের দাবিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বিক্ষোভ করেন কয়েক হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনসহ অন্য প্রধান ভবনগুলোতে জড়ো হয়ে শরিয়া আইন বাস্তবায়নের দাবি জানায়। দাবি পূরণে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে ইসলামাবাদের ‘হাই-সিকিউরিটি জোন’ দখলে নেন প্রায় ২৫ হাজার বিক্ষোভকারী। এ সময় তারা বিভিন্ন গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে বেশ কয়েকবার হুমকি দিয়েছে দেশটির ইসলামপন্থী দলগুলো। তাদের দাবি, নওয়াজ শরিফ পশ্চিমাঘেঁষা প্রধানমন্ত্রী। চলতি মাসের শুরুর দিকে পাকিস্তানে হিন্দুদের হোলি এবং খ্রিস্টানদের ইস্টার সানডে উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন নওয়াজ শরিফ। পাকিস্তান মুসলিমপ্রধান দেশ হলেও সেখানে হিন্দু ও খ্রিস্টানসহ বহুসংখ্যক অমুসলিমও বসবাস করেন। সূত্র: ডন।
/এমপি/








