প্রচলিত বিচারব্যবস্থা থেকে আলাদা হয়ে লাহোরে শরিয়া আদালত প্রতিষ্ঠার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। পাঞ্জাবের প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র জাইম কাদরি তদন্ত শুরু হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তার দাবি, কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই লস্কর-ই তৈয়বার দাতব্য শাখা জামাত-উদ-দাওয়া লাহোরে এমন একটি আদালত গঠন করেছে।
সম্প্রতি শরিয়া আইনের ভিত্তিতে ‘ন্যায়বিচার’ নিশ্চিত করতে দারুল কাজা শরিয়া আদালত স্থাপনের ঘোষণা দেয় জামাত-উদ-দাওয়া। এই আদালতের এক সমনে দেখা গেছে, তাতে দারুল কাজা শরিয়া, জামাতুদ দাওয়া পাকিস্তান এবং শরিয়াভিত্তিক সালিশি আদালত লেখা রয়েছে। জামাতুদ দাওয়া পাকিস্তানের কোনও নিষিদ্ধ সংগঠন নয়। তারা নানা সামাজিক ও দাতব্য সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত। বিভিন্ন শহরে তাদের বহু দাতব্য স্কুল ও হাসপাতাল রয়েছে।
জামাতুদ দাওয়া’র মতো একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের আদালত প্রতিষ্ঠার বিষয়টি পাকিস্তানে সংবিধানের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন দেশটির আইন বিশেষজ্ঞরা। তবে জামাতুদ দাওয়া বলছে, তারা শুধু শরিয়ার আলোকে সালিশ পরিচালনা করবে।
এদিকে খালিদ সাইদ নামে লাহোরভিত্তিক এক রিয়েল এস্টেট এজেন্ট অভিযোগ করেছেন যে ইসলামী আইন না মানলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওই আদালতের পক্ষ থেকে হুমকি দিয়ে সমন জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাকে একজন ফোন করে বলেছেন যে আদালতের সিদ্ধান্ত আমার বিরুদ্ধে গেছে এবং আমি যেন আদালতে ১ কোটি রুপি জমা দিই।’
অবশ্য এ ধরনের সমন জারির খবর নাকচ করে দিয়েছে জামাত-উদ-দাওয়া।
এর আগে গত মাসে শরিয়া আইনের দাবিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বিক্ষোভ করেন কয়েক হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনসহ অন্য প্রধান ভবনগুলোতে জড়ো হয়ে শরিয়া আইন বাস্তবায়নের দাবি জানায়। দাবি পূরণে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে ইসলামাবাদের ‘হাই-সিকিউরিটি জোন’ দখলে নেন প্রায় ২৫ হাজার বিক্ষোভকারী। এ সময় তারা বিভিন্ন গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে বেশ কয়েকবার হুমকি দিয়েছে দেশটির ইসলামপন্থী দলগুলো। তাদের দাবি,নওয়াজ শরিফ পশ্চিমাঘেঁষা প্রধানমন্ত্রী। চলতি মাসের শুরুর দিকে পাকিস্তানে হিন্দুদের হোলি এবং খ্রিস্টানদের ইস্টার সানডে উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন নওয়াজ শরিফ। সূত্র: আল জাজিরা
/এফইউ/








