রাষ্ট্রীয় মামলা থেকে মুক্ত হলেন মিয়ানমারের ২০০ রাজনৈতিক কর্মী

বিদেশ ডেস্ক
১০ এপ্রিল ২০১৬, ১৪:৫০আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৬, ০১:২০

এবার অন্তত ২০০ রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে থাকা রাষ্ট্রীয় মামলা তুলে নিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির সুপারিশের প্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো তুলে নেওয়া হয়। মিয়ানমার পুলিশের একজন মুখপাত্রের বরাতে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই খবর নিশ্চিত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিগগির তারা মুক্তি পাবেন।

রাষ্ট্রীয় মামলা থেকে মুক্ত হলেন মিয়ানমারের ২০০ রাজনৈতিক কর্মী

৭ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দুই সপ্তাহের মধ্যে রাজবন্দিদের মুক্তি দেওয়ার অঙ্গীকার করেন সু চি। প্রধানমন্ত্রী সমমর্যাদার রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার পদে আসীন হওয়ার পর এই মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা হিসেবে এটাই সু চির প্রথম অঙ্গীকার। নিজেও একজন রাজবন্দি ছিলেন সু চি। সরকারের সিদ্ধান্তেই মুক্তি পান তিনি। সুচির করা অঙ্গীকারের একদিনের মাথায় মুক্তি দেওয়া হয় মিয়ানমারের ৬৯ শিক্ষার্থীকে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ২০০ রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলো।

শুক্রবার এই নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো তুলে নেওয়া হয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সু চি প্রশাসন থেকে জোর তদবিরের ভিত্তিতে দেশজুড়ে ১৯৯টি মামলা তুলে নেওয়া হয়েছে।

অং সান সু চি

গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, মামলা তুলে নেওয়ার বিষয়টি সু চির ব্যক্তিগত দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে, কেননা সু চি ও তার সরকারের কর্মকর্তাদের পক্ষে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নিয়ে কারারুদ্ধ হয়েছিলেন এই নেতাকর্মীদের অনেকেই। এদের অনেকেই শিক্ষার্থী। তারা ২০১৫ সালে শিক্ষা আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় এখনও পর্যন্ত কারারুদ্ধ ছিলেন।

শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে সু চি জানান, মিয়ানমারের নববর্ষে আরও অনেক রাজবন্দির মুক্তি দেওয়া হবে, তবে তার আগে ‘প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ’র মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। পুলিশ জানায়, নববর্ষের উৎসব চলাকালেও কিছু মামলা পুনর্বিবেচনা করা হবে, উৎসব শেষে আদালত খুললে মুক্তি পাবেন তারা। অপর এক সূত্র জানায়, সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মুক্তির জন্য সু চি প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর করা ক্ষমাপত্রের প্রয়োজন হয়েছে।

তবে শুক্রবারের এই গণমুক্তির পেছনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোরও ভূমিকা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা কারাভ্যন্তরে থেকে যাওয়া রাজবন্দিদের মুক্তির অপেক্ষায় আছি। তাদের মুক্তি দিতে হবে ও সম্পূর্ণভাবে পুনর্বাসন করতে হবে।’

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে সামরিক শাসনের অবসান ও রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এরইমধ্যে শত শত রাজবন্দী কারামুক্ত হয়েছেন। সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসীন থাকার সময় থেকেই ধাপে ধাপে রাজবন্দীদের মুক্তি দেওয়া হয়। সূত্র: গার্ডিয়ান, আলজাজিরা

/ইউআর/বিএ/ 

সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম