ভারত-পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক চলমান থাকা অবস্থাতেই বিবৃতি প্রকাশ করায় ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে প্রটোকল ভঙ্গের অভিযোগ তুলে কড়া অবস্থান নিয়েছে দিল্লি। সশস্ত্র সংগঠন জয়েশ ই মোহাম্মদের নেতা মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবির প্রসঙ্গ পুনরায় উল্লেখ করে পাকিস্তানের ওপর চাপ জোরালো করা হয়েছে। ভারত জানিয়ে দিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিবেচনায় সন্ত্রাসবাদের ইস্যুকে পাকিস্তান অস্বীকার করতে পারে না। আলোচনায় এসেছে কাশ্মির এবং পাকিস্তানে আটক হওয়া ভারতীয়ের প্রসঙ্গ যাকে গোয়েন্দা সংস্থা র-এর এজেন্ট বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতের পাঞ্জাবের পাঠানকোট বিমান ঘাঁটিতে হামলার পর দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে এটিই প্রথম বৈঠক। বৈঠকটি জানুয়ারিতে হওয়ার কথা থাকলেও পাঠানকোটের হামলা এবং ওই ঘটনায় জয়েশ ই মোহাম্মদের দায় স্বীকারের পর আলোচনা থমকে যায়। মঙ্গলবার দিল্লিতে আফগানিস্তান ইস্যুতে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক সম্মেলনের এক ফাঁকে ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠকে অংশ নেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আইজাজ আহমেদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে প্রাধান্য পেয়েছে কাশ্মির ইস্যু। তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের পরামর্শ অনুযায়ী কাশ্মির সম্পর্কে যথাযথ সমাধান প্রয়োজন।’ পাকিস্তানের বিবৃতিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মির একটা মৌলিক ইস্যু যার সমাধান প্রয়োজন।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বিধি অনুযায়ী পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষ হওয়ার আগে বিবৃতি দেওয়ার রেওয়াজ নেই। তবে এই বিধি ভঙ্গ করে আলোচনা প্রক্রিয়াধীন থাকাকালেই ইসলামাবাদ বিবৃতি দিয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের আলোচনায় র’ এজেন্টের ইস্যুটি উঠে আসে বলে সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এনডিটিভি। পাকিস্তান যাকে র-এর এজেন্ট মনে করছে তিনি আসলে তা নন বলে দাবি করেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কোনও গোয়েন্দা সংস্থা তাদের একজন এজেন্টকে নিজ দেশের পাসপোর্ট ছাড়া কী করে রাখবে, তিনি ভিসা পাবেন কোথায়?’ অবশ্য পাকিস্তানের দাবি, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির কাছে ভুয়া নামে ভারতের বৈধ পাসপোর্ট ও ইরানের ভিসা রয়েছে এবং তিনি বেলুচিস্তানের সশস্ত্রদের উসকানি দিচ্ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী ভারতের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় সাত ভারতীয় সেনা ও ছয় জঙ্গির মৃত্যু হয়। জঙ্গিরা ভারতীয় সেনাদের পোশাক পরে বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়। পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন জয়েশ-ই-মোহাম্মদ এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তোলে ভারত। যদিও পরে বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন (যেগুলো কাশ্মীরে ভারতের শাসনের বিরোধিতা করে আসছে) নিয়ে গঠিত ‘দ্য ইউনাইটেড জিহাদ কাউন্সিল’ এ হামলার দায় স্বীকার করে। ওই হামলার পর দুই দেশের কূটনীতিকদের পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক বাতিল হয়ে যায়।
পাকিস্তান জানায়, ওই ঘটনার পর তারা জয়েশ-ই-মোহাম্মদের বেশ কয়েকজন সদস্যকে আটক করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করে সমবেদনা জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। তিনি বলেন, তদন্তে যদি পাকিস্তানের যোগসাজশের কোনও তথ্য পাওয়া যায়, তা হলে তার সরকার সত্য উদঘাটনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। সূত্র: এনডিটিভি।
/এমপি/এফইউ/বিএ/








