দুই সাংবাদিককে গ্রেফতারের পর বিক্ষোভ-প্রতিবাদ দমনে মিসরে সাংবাদিকইউনিয়নের সদর দফতর ঘিরে রেখেছে দাঙ্গা পুলিশ। সাংবাদিক ইউনিয়নে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে বুধবার সদর দফতরের বাইরে কয়েকশ সাংবাদিক বিক্ষোভ করেছেন।
মিসরের সাবেক সেনা প্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল-ফাত্তাহ আল-সিসি তার বিরুদ্ধে যে কোনও ধরনের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে নিষেধাজ্ঞা জারির পর দেশটি যে আন্দোলন চলছে এ ঘটনা তারই অংশ।
আরও পড়ুন: ভয় পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট সিসি, আরেক বসন্তের দ্বারপ্রান্তে মিসর!
বুধবার সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয় দাঙ্গা পুলিশ ঘিরে রাখার প্রতিবাদে কয়েকশ সাংবাদিক বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, সাংবাদিকতা কোনও অপরাধ নয়। তারা দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাগদি আবদেল-গাফফারের পদত্যাগও দাবি করেন।
পুলিশ সদর দফতরে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইউনিয়নের সদস্য ছাড়া কাউকেই প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। কয়েক স্তরের কর্মকর্তাদের অনুমতি নেওয়ার পরই কেবল বিদেশি সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। এসব কর্মকর্তাদের মধ্যে জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।
আরও পড়ুন: মৃত মানুষকে ফিরিয়ে আনবে নতুন প্রযুক্তি!
এক পর্যায়ে একদল সাংবাদিক পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। এদের মধ্যে অনেকেই ইউনিয়নের কার্ড দেখালেও পুলিশ তাদের প্রবেশ করতে দিচ্ছিলো না।
সরকার সমর্থকরাও বুধবার রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে।
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সৌদি বাদশাহ সালমানের মিসর সফরকালে প্রেসিডেন্ট সিসি নির্বাহী ক্ষমতাবলে সৌদি আরবকে লোহিত সাগরে মিশরের নিয়ন্ত্রণে থাকা দুটি দ্বীপ সৌদি আরবকে উপহার হিসেবে প্রদানের ঘোষণা দেন। ১৯৫০ সাল থেকে দ্বীপ দুটি মিসরের দখলে ছিল। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। গত ১৫ এপ্রিল কায়রোর গিজা এলাকায় আল-সিসি শাসনের পতনের ডাক দেন বিক্ষোভকারীরা। ব্যাঙ্গ করে তারা সিসিকে নাম দেন 'সিসি মুবারক'। বিক্ষোভকালে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মিসরের নিরাপত্তাবাহিনীর সংঘর্ষও হয়েছে। ব্যাপক ধরপাকড় করা হয়। ওই দিনই ২৫ এপ্রিল বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। ২৫ এপ্রিল ছিল সিনাই মুক্ত দিবস। মিসরের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সিসিকে দায়ী করে সিনাই মুক্ত দিবসকে বিক্ষোভের রঙে রাঙিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। তাহরির স্কয়ারে কয়েক হাজার মানুষের বিক্ষোভ দমাতে সেনা সদস্য ও আর্মড পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গ্রেফতার করা হয় কয়েকশ আন্দোলনকারী ও সাংবাদিককে। সূত্র: আল-জাজিরা।
/এএ/








