আবাসস্থল হারানো ও মানুষের খাদ্যে পরিণত হওয়ার কারণে প্রায় সব প্রজাতির লেমুরই বিলুপ্তর পথে। গোল গোল চোখের লেমুর এখন পুরো পৃথিবীতে বিলুপ্ত হওয়ার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা প্রাণি হিসেবে আখ্যায়িত হচ্ছে। প্রাণি বৈচিত্র রক্ষায় কাজ করা পরিবেশবাদীরা যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেছেন, আবাস্থল রক্ষা ও স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলে লেমুর হত্যা বন্ধ হতে পারে।
লেমুরদের আবাস্থল মাদাগাস্কার। সেখানে অবৈধভাবে গাছ কাটা চলতে থাকায় লেমুররা তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে। তাছাড়া সেখানে কয়লা উৎপাদন শুরু হয়েছ। এর পাশাপাশি রয়েছে স্থানীয় রেস্টুরেন্টে খাদ্য হিসেবে লেমুরের চাহিদা। অনেক লেমুর আটক করা হয় পোষা প্রাণি হিসেবে বিক্রির জন্য।
মাদাগাস্কারে ১১১ প্রজাতির লেমুরের অস্তিত্ব রয়েছে। কিন্তু পরিবেশে ক্রমেই প্রতিকূল হতে থাকায় ৯৫ শতাংশ লেমুরের প্রজাতিই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। পরিবেশবাদীরা বিষয়টি পর্যালোচনা করে ‘ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের’ (আইইউসিএন) বিলুপ্ত প্রাণীর তালিকায় লেমুরকে যুক্ত করার প্রস্তাব করেছেন।
‘গ্লোবাল ওয়াইল্ড লাইফ প্রিজারভেশন’ নামক পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্য রুশ মিটারমিয়ারের মতে, মাদাগাস্কারে লেমুরের প্রজাতিগুলো যেমন বিলুপ্ত হওয়ার পথে, তেমনি সার্বিকভাবেই মাদাগাস্কারের প্রাণবৈচিত্র ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তার ভাষ্য, ‘স্তন্যপায়ী হোক আর মেরুদন্ডী প্রাণি হোক, সবার বিষয়েই এ পর্যবেক্ষণ প্রযোজ্য।’
ব্রিস্টল জুওলজিকাল সোসাইটির ক্রিস্টোফার সুইটজার বিবিসিকে বলেছেন, ‘দিন দিন লেমুর হত্যা বাড়ছে। সম্প্রতি বাণিজ্যিক কারণেও লেমুর হত্যা ঘটছে। স্থানীয় রেস্টুরেন্টগুলো লেমুরকে খাদ্য হিসেবে বিক্রি করছে। মাদাগাস্কারে এটি একটি নতুন বিষয়। ১৫ বছর আগেও আমরা এমন পরিস্থিতি দেখিনি।’
প্রায় ৯৫ শতাংশ লেমুরই যে বিলুপ্ত হওয়ার পথে এবং তাদের সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া উচিত, এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি পিয়ার রিভিউয়ের পর ‘আইইউসিএন রেড লিস্ট’ নতুন তথ্যের ভিত্তিতে হালনাহগাদ করা হবে।
আইইউসিএন অবশ্য ইতোমধ্যে লেমুর রক্ষায় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সংস্থাটি লেমুরদের আবাসস্থল রক্ষার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। তাছাড়া ইকো ট্যুরিজমের মাধ্যমে যেন স্থানীয়দের আয়ের ব্যবস্থা হয়, সে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সংস্থাটি। তারা আশা করে, ইকো ট্যুরিজম থেকে আয় হলে অর্থের জন্য স্থানীয়রা লেমুরসহ অন্যান্য প্রাণি হত্যা থেকে বিরত থাকবে।








