নতুন মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল পদের গুরুত্ব সামনে এসেছে। তিনি এবার এমন একজন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের পরিকল্পনা করছেন, যিনি তার প্রশাসনের পক্ষে কাজ করবেন। ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য হলো ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান চালানো, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলার দায়ে অভিযুক্তদের ক্ষমা করা এবং তার বিরুদ্ধে বাইডেনের শাসনামলে দায়ের করা মামলাগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
প্রথম মেয়াদে জেফ সেশনস এবং বিল বার-এর মতো অ্যাটর্নি জেনারেলরা ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ট্রাম্পের দাবিতে তাদের ‘বাধা’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। এবার তিনি এমন একজন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দিতে চান, যিনি তার প্রশাসনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে দৃঢ় ভূমিকা পালন করবেন। তার নির্বাচিত প্রতিনিধি মার্ক পাওলেটা ইতোমধ্যে সতর্ক করেছেন যে, প্রশাসনের কাজের সঙ্গে যারা সমন্বয় রাখতে পারবেন না তাদের চাকরি হারাতে হতে পারে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তার প্রশাসনের একটি সুসংগঠিত বিচার বিভাগ তৈরি করা রয়েছে। উপরন্তু, তার প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুসারে অভিবাসন সম্পর্কিত মামলাগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং যারা বিচার বিভাগীয় অনুদান পেতে চাইবে তাদের জন্য ফেডারেল অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে সহযোগিতা বাধ্যতামূলক করা হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তারা বলছেন, এই ধরণের পদক্ষেপ পরবর্তী বিচার বিভাগীয় নীতিমালা এবং সুশাসনের মূলনীতিকে বিপদে ফেলতে পারে।
নির্বাচনি প্রচার চলাকালে ট্রাম্প তার সমর্থকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি তার মামলার বিচারকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিবেন। বিশেষত, যারা তার প্রথম মেয়াদে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হবে বলে তিনি জানান।
এই প্রেক্ষাপটে অ্যাটর্নি জেনারেল পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মিসৌরির অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ড্রু বেইলি, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান জে ক্লেটন, সুলিভান অ্যান্ড ক্রোমওয়েলের রবার্ট জিউফরা ও মার্ক হুইটেকার।
এদিকে, দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের শাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক সরকারি কর্মী। আইনজীবী মার্ক জেইড জানান, অনেকেই উদ্বেগে আছেন এবং আগামী বছরের জানুয়ারির শপথের দিন দেশের বাইরে অবস্থান করার পরিকল্পনা করছেন।








