মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছেন। এই সপ্তাহেই তিনি নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা। মস্কোর বিরুদ্ধে কিয়েভের যুদ্ধ প্রচেষ্টা জোরদার করার অংশ হিসেবে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন সামরিক সহায়তা ঘোষণারও প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের জন্য সহায়ক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
আগামী ২০ জানুয়ারি নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের প্রাক্কালে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে মস্কোর যুদ্ধ শেষ করার প্রস্তাবের সম্ভাবনা কিয়েভে একদিকে আশা তৈরি করেছে, অন্যদিকে দ্রুত একটি শান্তি চুক্তি হলে তার মূল্য কী হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগও সৃষ্টি হয়েছে।
ট্রাম্পের উপদেষ্টারা ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। এসব প্রস্তাব কার্যকর হলে ইউক্রেনের একটি বড় অংশ রাশিয়ার অধীনে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনকে শক্তিশালী অবস্থানে রাখতে চান, যাতে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে ইউক্রেনের কূটনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি পায়।
বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্রাম্প শিবিরের সঙ্গে তাদের পদক্ষেপগুলো নিয়ে ব্রিফ করছেন। তবে বাইডেনের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞাগুলোর সুনির্দিষ্ট বিবরণ এখনও জানা যায়নি।
বাইডেন প্রশাসন জানায়, ইউক্রেনকে প্রতিশ্রুত বেশিরভাগ অস্ত্র ও গোলাবারুদ ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে এবং বাকি অংশ শিগগিরই পৌঁছাবে। ইউক্রেনের অস্ত্রের মজুদ এখন যথেষ্ট ভালো অবস্থানে রয়েছে।
তবে অতীতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আরও উন্নত অস্ত্র সহায়তার জন্য চাপ দিলেও শুরুতে বাইডেন প্রশাসন তা দিতে দ্বিধা করেছিল। পরে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, আব্রামস ট্যাংক এবং দূরপাল্লার এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্রসহ আরও উন্নত সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়।
যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে ভবিষ্যৎ রুশ আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, এমনকি ন্যাটো সদস্যপদও প্রয়োজন হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
রাশিয়ার পক্ষে সহায়তাকারী আরও কিছু চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনাও করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন গত মাসে বলেছিলেন, রাশিয়ার তেল রাজস্ব এবং বিদেশি সরবরাহে প্রবেশাধিকার কমানোর জন্য ওয়াশিংটন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।








