নিজের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট ক্লদ কোড-এর গোপন তথ্য ও প্রযুক্তি চুরি ঠেকাতে চীনভিত্তিক ব্যবহারকারীদের ওপর গোপনে নজরদারি শুরু করেছিল মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। তবে এক সফটওয়্যার ডেভেলপারের মাধ্যমে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে সিলিকন ভ্যালিতে। তীব্র সমালোচনার মুখে গত সপ্তাহে সেই নজরদারি কোড সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যানথ্রোপিক ও চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই-এর অভিযোগ, আলিবাবা, ডিপসিক, মুনশট এবং মিনিম্যাক্সের মতো চীনা এআই প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন চ্যাটবটগুলোকে লাখ লাখ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে তাদের উত্তর থেকে নিজেদের সস্তা চ্যাটবটকে উন্নত করছে।
মার্কিন সিনেটরদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অ্যানথ্রোপিক দাবি করেছে, আলিবাবার ‘কোয়েন এআই’ টিম প্রায় ২৫ হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ক্লদ চ্যাটবটের সঙ্গে ২৮.৮ মিলিয়নেরও বেশিবার চ্যাট করে তথ্য হাতিয়েছে। এমনকি বেইজিংয়ের পিকিং ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, আলিবাবার একটি মডেলকে প্রশ্ন করা হলে সেটি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সময় নিজেকে ভুল করে ‘ক্লদ’ বলে পরিচয় দেয়, যা তথ্য চুরির স্পষ্ট প্রমাণ।
এই চুরির পথ বন্ধ করতে অ্যানথ্রোপিক ও ওপেনএআই মূল চীন এবং হংকংয়ের ব্যবহারকারীদের নিষিদ্ধ করেছে। এমনকি আইডেন্টিটি কার্ড যাচাই ও আইপি ব্লক করার পাশাপাশি চীন-নিয়ন্ত্রিত যেকোনো বৈশ্বিক অ্যাকাউন্টের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অ্যানথ্রোপিক ইতোমধ্যে প্রায় ৭ লাখ ভুয়া চীনা অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছে।
তবে চীনের ব্যবহারকারীরাও কম যান না; মাত্র ১ থেকে ১২ ডলারের বিনিময়ে প্রক্সি সার্ভার ও থার্ড-পার্টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আমেরিকার এই নিষেধাজ্ঞা সহজেই ফাঁকি দিচ্ছেন তারা। ট্রাম্প প্রশাসন একে ‘মেধাসম্পদ চুরি’ এবং আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে।
অনেক বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন যে চীনা এআই-কে কেবল ‘চুরি করা জিনিস’ ভাবলে ভুল হবে, কারণ তারা ইতোমধ্যে মার্কিন মডেলের সমান প্রযুক্তি বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে বিশ্ববাজারে ছেড়ে দিচ্ছে, যা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্যিক আধিপত্যকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট








