চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমটা যেন একেবারেই জে ডি ভ্যান্সের। বর্তমান এই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে একটি বেস্টসেলার বই লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সাময়িক শান্তি চুক্তি সম্পাদনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন, গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওভাল অফিসের প্রধান তথা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন জয় করতে পেরেছেন।
টেলিভিশন পর্দায় পারফরম্যান্স, জনমত জরিপ এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির কৌশলে ভ্যান্সের সাম্প্রতিক ভূমিকা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অন্তত এই মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেন, তবে জে ডি ভ্যান্সই তার অবিসংবাদিত রাজনৈতিক উত্তরসূরি হতে যাচ্ছেন।
ট্রাম্পের এক সিনিয়র উপদেষ্টা বলেন, জে ডি নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে এবং ট্রাম্প তা দেখছেন। ট্রাম্পের আরেক শীর্ষ সহযোগী তথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এমনিতেও নির্বাচনে লড়ার পরিকল্পনা করছিলেন না, আর এখন তো তার লড়ার সম্ভাবনা আরও কমে গেছে। রুবিওকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প মূলত ভ্যান্স এবং রুবিওকে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে আসছিলেন। ২০২৮ সালের নির্বাচনি টিকিটের শীর্ষে কাকে দেখতে চান, সে বিষয়ে উপদেষ্টাদের মতামত জানতে চাইতেন ট্রাম্প। তবে সেই অভ্যন্তরীণ আলোচনা এখন বন্ধ রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট এখন আর জিজ্ঞেস করেন না, জে ডি নাকি মার্কো? এমনকি তিনি এখন আর এটাও জানতে চান না যে, জে ডি কেমন করছে? বরং তিনি এখন নিজেই বলেন, জে ডি-কে দারুণ লাগছে, তাই না?
ভ্যান্সের রাজনীতির এই মোড় পরিবর্তনের সূচনা হয় জুনের মাঝামাঝিতে। সে সময় তিনি এবং প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ যৌথভাবে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে মধ্যস্থতা করেন, যা চলমান যুদ্ধ অবসানের অভিমুখে একটি বড় পদক্ষেপ।
এর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ ১৬ জুন ভ্যান্সের নতুন বই ‘কমিউনিয়ন: ফাইন্ডিং মাই ওয়ে ব্যাক টু ফেইথ’ প্রকাশিত হয়। বইয়ের প্রচারণামূলক সফরে যাওয়ার পূর্বনির্ধারিত সূচি থাকায় শান্তি আলোচনায় তার ভূমিকার কারণে ব্রেকিং নিউজের সবটুকু আলো নিজের দিকে কেড়ে নেন ভ্যান্স।
ভ্যান্সের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে তিনি রক্ষণশীল ধারার পডকাস্ট, হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং, সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনা থেকে শুরু করে এইচবিও-তে বিল মাহেরের শো এবং এবিসি-র লিবারেল ধারার টকশো দ্য ভিউ সব মিলিয়ে মোট ৩৩টি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা বলেন, প্রেসিডেন্ট নিজে দ্য ভিউ অনুষ্ঠানটি দেখেন না। কিন্তু তিনি এর ভিডিও ক্লিপগুলো দেখেছেন এবং যা দেখেছেন তা তার বেশ পছন্দ হয়েছে।
এর পাশাপাশি ভ্যান্স রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির (আরএনসি) জন্য তহবিল সংগ্রহের অভিযানে নেমে প্রায় ৭০ মিলিয়ন (৭ কোটি) ডলারের অনুদান এনে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে নিজে প্রেসিডেন্ট পদে লড়লে এই তহবিল সংগ্রহের নেটওয়ার্কটি তার বড় শক্তি হয়ে উঠবে।
যদিও সাধারণ মার্কিনিদের মাঝে ভ্যান্সের গ্রহণযোগ্যতার হার বেশ নিচের দিকে এবং তা প্রায় ট্রাম্পের সমান। তবে ডেমোক্র্যাট-ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ন্যাভিগেটর রিসার্চ কর্তৃক গত মাসে প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, রিপাবলিকানদের মাঝে তার নিট গ্রহণযোগ্যতার হার ৬২ শতাংশ, যা ট্রাম্পের (৬৫ শতাংশ) কাছাকাছি এবং রুবিও’র (৫১ শতাংশ) চেয়ে অনেক বেশি। জাতীয় ও প্রাথমিক অঙ্গরাজ্যগুলোর জনমত জরিপগুলোতেও ভ্যান্স তার অন্য সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে আছেন।
বর্তমানে ভ্যান্সের ওপর ট্রাম্প সন্তুষ্ট থাকলেও, ভ্যান্সের এক শীর্ষ সহযোগী ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের ওপর প্রেসিডেন্ট কিছুটা ক্ষুব্ধ। কার্লসন ইদানিং প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনা করছেন।
ট্রাম্পের আরেক উপদেষ্টা বলেন, এখন পর্যন্ত টাকার কার্লসন কোনও সমস্যা নন। কিন্তু ট্রাম্প যদি জে ডি-কে তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেন, তবে তা সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তা ছাড়া, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে স্বাক্ষর করা এবং ইসরায়েলের ডানপন্থি রাজনীতিকদের সমালোচনা করার কারণে ইসরায়েলপন্থি রক্ষণশীলরা ভ্যান্সের ওপর অসন্তুষ্ট। তারা চান রুবিও যেন ভ্যান্সের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে তেমনটা হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ ভ্যান্স ও রুবিও একে অপরের বন্ধু এবং রাজনৈতিক মিত্র।
ব্যবসায়িক খাতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে ভ্যান্সের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করেছেন রক্ষণশীল থিংক ট্যাংক ক্লাব ফর গ্রোথ-এর প্রধান। শনিবার তিনি মন্তব্য করেন, ভ্যান্স মুক্তবাজার অর্থনীতির পক্ষে যথেষ্ট সমর্থন দিচ্ছেন না।
তবে মার্কো রুবিও পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রাইমারি নির্বাচনে লড়াই করার কোনও ইচ্ছা তার নেই। রুবিও’র এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেন, সম্ভাব্য প্রচারণার জন্য ভ্যান্সের যে ধরনের শক্তিশালী রাজনৈতিক পরামর্শদাতা ও অভিজ্ঞ মহলের নেটওয়ার্ক রয়েছে, রুবিও’র তা নেই। তিনি বলেন, মার্কোর কোনও আক্রমণাত্মক দল নেই, যা ভ্যান্সের আছে। জে ডি-র অবস্থান এখন বেশ ভালো এবং প্রশাসনের সবাই তা জানে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস

চ্যাটবটের তথ্যফাঁস নিয়ে চীন-মার্কিন এআই যুদ্ধ
ট্রাম্পের ফোনে লাল কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন এত বিতর্কিত
এআইয়ের ধাক্কায় মাইক্রোসফটে বড় ছাঁটাই, চাকরি হারাচ্ছেন ৪৮০০ কর্মী
ইরান ছাড় দিয়েছে, তবে তা চূড়ান্ত নয়, স্বীকারোক্তি ট্রাম্পের
হাতের ট্যাটুতে খুললো ক্ষতবিক্ষত লাশের রহস্যের জট, ৬ সপ্তাহ পর ৩ খুনি গ্রেফতার
গোল হলেই বাজবে কোন গান, কীভাবে ঠিক হয় বিশ্বকাপের প্লে-লিস্ট?
ভারতকে কেন ধন্যবাদ জানালো ইরান






