কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৫৪ জনে পৌঁছেছে। কয়েক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজে মরিয়া উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
এই ভূকম্পনে অসংখ্য অ্যাপার্টমেন্ট, বাড়িঘর, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া খবরে কফি অঞ্চলের কেন্দ্রস্থল পেরেইরাতে ১০১ জন এবং দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় চোকো অঞ্চলের অনেক আদিবাসী সম্প্রদায় বিদ্যুৎ ও মৌলিক পরিষেবা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
নতুন প্রেসিডেন্ট অ্যাবেলিয়ার্ডো দে লা এস্প্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এই বিপর্যয় ঘটলো। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সফর করে গৃহহীনদের অর্থনৈতিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। সাবেক বামপন্থি সরকারের প্রস্তুত করা ১৮০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজেট সংশোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তার সরকার। অন্যদিকে ন্যাশনাল কফি ফেডারেশনের প্রধান জার্মান বাহামন জানান, খামার ও গ্রামীণ অবকাঠামোর ক্ষতি মূল্যায়নে কাজ করছেন তারা।
ধ্বংসস্তূপে ক্রেন, এক্সকাভেটর কিংবা খালি হাতে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারী ও স্বেচ্ছাসেবীরা। পেরেইরাতে রোসা গঞ্জালেজ নামের এক নারী জানান, তার গেস্টহাউসটি চোখের সামনে ধসে পড়লেও তিনি ও তার পরিবার অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরেন। ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার হোসে গাল্লেগো পেরেইরা বিমানবন্দরে আটকা পড়ে লাইভ ভিডিওতে আতঙ্কের মুহূর্তগুলো তুলে ধরেন। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত শতাধিক আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।
কালি শহরে গৃহহীন হওয়া আলবার্টো মাচাদো জানান, তার ধ্বংস হওয়া বাড়ির পরিবার এখন প্রতিবেশীর আশ্রয়ে রয়েছে। শহরের একটি স্পোর্টস সেন্টারে ৬০ জনের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কালির টোরেস দেল লিমোনার অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ধ্বংসস্তূপ থেকে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হলে উপস্থিত জনতা আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করে। তবে শহরের সরকারি স্বাস্থ্য সচিব জার্মান এসকোবার জানিয়েছেন, কালির মর্গে আর জায়গা নেই এবং রাস্তা থেকে আরও মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও লুটপাট ঠেকাতে রাতে সান্ধ্যআইন জারি করেছেন মেয়র আলেজান্দ্রো এডার।
উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি চোকোর সিপির মতো দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, তারা এখনও কোনও সরকারি সহায়তা পাননি। স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চিকিৎসা সামগ্রী না থাকায় নিজেদের মতো করেই তারা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তিনটি বিমানবন্দর ও বেশ কিছু প্রধান মহাসড়ক বন্ধ ছিল, পাশাপাশি গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
সোমবার দুপুরে প্রেসিডেন্ট একটি প্রাথমিক মৃত্যুর সংখ্যা জানানোর পর সরকারের তরফ থেকে নতুন কোনও সংখ্যা প্রকাশ না করায় সমালোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত থাকায় পুরো ক্ষয়ক্ষতি ও চূড়ান্ত প্রাণহানির তথ্য জানতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
সূত্র: রয়টার্স

প্রথম আন্তর্জাতিক রুটে উড়তে যাচ্ছে চীনের তৈরি উড়োজাহাজ
অমিত শাহের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন রাহুল গান্ধী
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ২৪ ঘণ্টা আগে নোটিশ চায় যুক্তরাষ্ট্রসহ ৪১ দেশ







