ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সী এক রাজমিস্ত্রী অনলাইনের প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে নিজের সব জিনিসপত্র বিক্রি করে ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। কিন্তু গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার সেই প্রেমিকা আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) তৈরি।
অনলাইনে প্রেম খুঁজে পাওয়া যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি বাস্তবও হতে পারে। পুরোনো জীবন পেছনে ফেলে আসতে চাওয়া এদিমার রোচা মার্টিনসও বিশ্বাস করেছিলেন, তিনিও ভাগ্যবান হতে পারেন। মা মারা যাওয়ার পর যে শহরে মায়ের সঙ্গে থাকতেন, সেখানে আর সুখী বোধ করছিলেন না ব্রাজিলের এই রাজমিস্ত্রী। তিনি চেয়েছিলেন সঙ্গ, নতুন করে শুরু করার সুযোগ এবং জীবন ভাগ করে নেওয়ার মতো একজন মানুষ।
তিনি ভেবেছিলেন, অনলাইনে সেই মানুষটিকে খুঁজে পেয়েছেন। তাই জিনিসপত্র বিক্রি করে বাসে চড়ে তার সঙ্গে দেখা করতে ২ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেন। ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় পথে কাটিয়ে তিনি ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেলো ওরিজন্তিতে পৌঁছান। জেসিকা নামে যাকে তিনি চিনতেন, তার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে প্রস্তুত ছিলেন তিনি। সেখানেই তিনি সম্ভবত জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি খান। তার স্বপ্নের নারী জেসিকার কোনও অস্তিত্বই ছিল না।
মার্টিনস মারানহাও রাজ্যের ইম্পেরাত্রিজ থেকে এমন একজন নারীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, যার ছবি ও ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি। শহরে পৌঁছে লোকজনকে জিজ্ঞেস করে তাকে কোথায় পাওয়া যাবে, তা খুঁজতে গিয়েই তিনি সত্যটি জানতে পারেন।
মার্টিনস সামাজিক মাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামে একটি অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করছিলেন, যিনি জেসিকা ফাজেন্দেইরা নামেও পরিচিত। ভিডিওগুলোতে তিনি নিজেকে এক বিধবা হিসেবে পরিচয় দিতেন, যার মিনাস জেরাইসে একটি খামার আছে এবং যিনি জীবন ভাগ করে নেওয়ার জন্য একজন পুরুষ চান। জেসিকার বার্তা ছিল আকর্ষণীয়। তিনি সঙ্গী খুঁজে পাওয়ার কথা বলতেন এবং খামারে আরামদায়ক জীবনের প্রতিশ্রুতি দিতেন। একটি ভিডিওতে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যে পুরুষ তার সঙ্গে থাকতে আসবেন, তাকে তিনি সহায়তা করবেন।
সিএনএন ব্রাজিলের প্রতিবেদন করা একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, আমি চাই তুমি আমার খামারে এসো এবং জীবনে আর কখনও কাজ না করো।
এর আগে জুনে ৭২ বছর বয়সী ওয়াল্টার দা সিলভা রোরাইমা থেকে বেলো ওরিজন্তিতে যান। টিকটকে দেখা এক নারী তাকে সঙ্গী হিসেবে চান এবং নিজের খামারে কাজ দেবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেছিলেন।
আগস্টে ৭১ বছর বয়সী আলবার্তো দা কস্তা মানাউস থেকে বেলো ওরিজন্তিতে যান। এ যাত্রায় তিনি প্রায় ৩ হাজার রেয়াল খরচ করেছেন বলে জানা গেছে। তিনিও একই ধরনের অনলাইন ভিডিওতে দেখা এক নারীর সঙ্গে দেখা করবেন বলে আশা করেছিলেন, কিন্তু পরে জানতে পারেন, তিনি আসলে কোনো বাস্তব রোমান্টিক সঙ্গী নন।
ব্রাজিলের সম্প্রচারমাধ্যম রাদিও ইতাতিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বেলো ওরিজন্তিতে এ ধরনের তৃতীয় ঘটনা হিসেবে খবর পাওয়া গেছে মার্টিনসের অভিজ্ঞতা।
সূত্র: পালস
ককরোচদের ঠেকাতে ‘লাল হিট জনতা পার্টির’ আত্মপ্রকাশ