২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের (৯/১১) ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার অভিযুক্ত মূল পরিকল্পনাকারী খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং তার দুই সহযোগীর আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে মৃত্যুদণ্ড এড়ানোর জন্য তারা যে আবেদন জানিয়েছিলেন, তা নাকচ হয়ে গেলো এবং তাদের বিচারে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল রইলো।
সোমবার প্রকাশিত সুপ্রিম কোর্টের আদেশের তালিকায় খালিদ শেখ মোহাম্মদ বনাম যুক্তরাষ্ট্র মামলার আপিলটি না শোনার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে আদালতের কোনও লিখিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকায় বিচারক ব্রেট কাভানা এই সিদ্ধান্ত থেকে নিজেকে বিরত রাখেন।
২০২৪ সালে এই তিন আসামির সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের একটি সমঝোতা হয়েছিল, যার মাধ্যমে বিচার মেনে নিলে মৃত্যুদণ্ড মওকুফ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হামলায় নিহতদের স্বজনদের ক্ষোভ ও তীব্র আপত্তির মুখে তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন কয়েকদিনের মাথায় সেই সমঝোতা বাতিল করেন। অস্টিন ঘোষণা করেন, এমন সিদ্ধান্তের দায়িত্ব কেবল তার ওপরেই থাকা উচিত।
চুক্তি বাতিলের পর খালিদ শেখ মোহাম্মদ, ওয়ালিদ বিন আত্তাশ এবং মুস্তফা আল-হাউসাউই আইনি লড়াই শুরু করেন। একটি সামরিক আদালত প্রাথমিক পর্যায়ে আসামিদের পক্ষে রায় দিলেও পরবর্তীতে ওয়াশিংটন ডিসি সার্কিটের আপিল আদালত লয়েড অস্টিনের সিদ্ধান্তকে বহাল রাখে। এর পরই আসামিরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন।
হামলা চালানোর অভিযোগে ২০০৮ সালে প্রথম এই তিনজনের বিরুদ্ধে সামরিক চার্জশিট গঠন করা হয়। ২০০৬ সাল থেকে তারা কিউবার গুয়ান্তানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন সামরিক কারাগারে বন্দি রয়েছেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০২৮ সালের জুনে সামরিক আদালতে তাদের বিচার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে প্রায় ২৫ বছর পর সরকার সাজা নিশ্চিত করতে চায়।
সূত্র: অ্যাক্সিওস
বিক্ষোভ-সহিংসতায় উত্তাল ফ্রান্স, ম্যাক্রোঁ কোথায়?
নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানালেন জেডি ভ্যান্স