পাকিস্তানের কোয়েটার একটি হাসপাতালের ভেতরে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সিভিল হাসপাতালে এ বিস্ফোরণ ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের সংখ্যা সম্পর্কে কোনও নিশ্চিত তথ্যা পাওয়া যায়নি। ডন ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউন পুলিশের বরাত দিয়ে ৩০ জন নিহতের কথা জানিয়েছে। বিস্ফোরণে আরও অন্তত ৩০-৩৫ জন আহত হয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
ডন-এর খবরে বলা হয়েছে, সোমবার ভোরে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে বালুচিস্তান বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বিলাল আনওয়ার কাসি নিহত পরই হাসপাতালে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, হাসপাতালে বিলালের মৃতদেহ দেখতে আইনজীবীরা উপস্থিত হওয়ার পরই বিস্ফোরণ ঘটে। বেশ কয়েকজন আইনজীবী আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর বেশ কিছু গুলির শব্দ শোনা গেছে।
ফরিদুল্লাহ নামে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে পূর্বে কাসির মরদেহ দেখতে অন্তত ৫০ জন আইনজীবী হাসপাতালে প্রবেশ করেন।
জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ জানিয়েছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বিস্ফোরণের পর গুলি শুরু করে। বিস্ফোরণের পর হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে দৌড়ে হাসপাতাল থেকে মানুষজন বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। হাসপাতালে জরুরি বিভাগের কাছেই বিস্ফোরণটি ঘটে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, আহতদের বেশিরভাগই আইনজীবী।
দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, বিস্ফোরণে আজ টিভির এক সাংবাদিক নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সেনা সদস্য ও পুলিশ হাসপাতালটি ঘিরে রেখেছে। কোয়েটার হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন আহতকে চিকিৎসার অন্য হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুগতি বলেন, নিরাপত্তায় ঘাটতি থাকার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ঘটনাটির তদন্ত করাব। তিনি জানান, বিস্ফোরণের প্রকৃতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলা সম্ভব না। এর আগে হাসপাতালে কোনও হুমকি আসেনি। হামলাটি আত্মঘাতী হতে পারে বলেও উল্লেখ করনে তিনি।
তাৎক্ষণিকভাবে হামলার দায় কেউ স্বীকার করেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কাউকেই প্রদেশটির শান্তিতে ব্যাঘাতে ঘটাতে দেওয়া হবে না।
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এ হামলা নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক সপ্তাহ শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে। লাহোর হাইকোর্টের আইনজীবীরা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন।
গত এক দশক ধরে বালুচিস্তানে বেশ কিছু সহিংসতা ও টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৫ বছরে সংখ্যালঘু শিয়া ও হাজারা সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অন্তত ১ হাজার ৪০০টি হামলা হয়েছে।
আয়তনে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও আল কায়েদা জঙ্গিরা বেশ সক্রিয়। আফগানিস্তান ও ইরানের সঙ্গে প্রদেশটির সীমান্ত রয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরও খবর-
পাকিস্তানে হাসপাতালে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ, ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা
সূত্র: ডন, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, জিও নিউজ।
/এএ/







