দেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে আরও দুজনকে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। মঙ্গলবার আদালত তাদের কারাদাণ্ডের রায় দেয়। এর আগে গ্রেফতার হওয়া ৮ বাংলাদেশির মধ্যে ৪জনকে কারাদণ্ড দিয়েছিল দেশটির আদালত। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মামুন লিয়াকত আলি (২৯) ও জামান দৌলত (৩৪) প্রথমে নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও পরে অপরাধ স্বীকার করে। মামুন বাংলাদেশ সরকারকে উৎখাতের জন্য জঙ্গি কর্মকাণ্ডে ৬০০ মার্কিন ডলার অর্থ সহযোগিতা দেয়। আর জামান ২০০ ডলার দিয়েছিল। আদালত তাদের দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
গত ১২ জুলাই জঙ্গিবাদে অর্থায়নের অভিযোগে চার বাংলাদেশিকে দুই থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সিঙ্গাপুরের একটি আদালত।
কারাদণ্ড প্রাপ্ত চার বাংলাদেশি হলেন, মিজানুর রহমান (৩১), রুবেল মিয়া (২৬), মো. জাবেদ কায়সার হাজি নুরুল ইসলাম সওদাগর (৩০) ও ইসমাইল হাওলাদার সোহেল (২৯)। এ চারজনই চলতি বছরের ৩১ মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আদালতের রায়ে চক্রটির প্রধান মিজানুর রহমানকে ৫ বছরের (৬০ মাস) কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ইসমাইল হাওলাদার সোহেলকে ২ বছরের (২৪ মাস) কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। রুবেল মিয়া ও জাবেদ কায়সারকে আড়াই বছর (৩০ মাস) করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, গত ২৭ মে থেকে তাদের সাজা কার্যকর হবে। ওই দিনই অভিযুক্তরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। একই অভিযোগে অভিযুক্ত মামুন লিয়াকত আলী (২৯) ও জামান দৌলত (৩৪) নামের অপর দুই বাংলাদেশি জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সাজাপ্রাপ্তদের জঙ্গি অর্থায়নবিষয়ক আইনে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ আইনে দেশটিতে এই প্রথম সাজা প্রদান করা হলো।
আদালতের নথি অনুসারে, জঙ্গি অর্থায়নকারীদের এ গ্রুপের প্রত্যেকের দায়িত্ব ভাগ করা ছিল। মিজানুর রহমান ছিলেন তাদের দলনেতা। মামুন ছিলেন তার সহকারী। রুবেল মিয়া ছিলেন ওই দলের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে এবং জাবেদ কায়সার সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বে ছিলেন। জামান ও সোহেলকে গ্রুপের নিরাপত্তা ও নতুনকর্মী সংগ্রহের দায়িত্বও দেওয়া হয়।
আদালতের নথিতে আরও দেখা যায়, জাবেদের কাছে ১ হাজার ৩৬০ ডলার জমানো ছিল। এর মধ্যে রুবেল তাকে ১ হাজার ৬০ ডলার দিয়েছিল। ওই ছয়জন ৬০ থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত প্রদান করেছিলেন।
আদালতের নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মিজানুর রহমান ২০১৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশে অপর এক বাংলাদেশি নাগরিক ‘জাহাঙ্গীর আলম’-এর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সিঙ্গাপুরে আসার সময় মিজানুরের সঙ্গী ছিলেন জামান এবং অপর এক বাংলাদেশি নাগরিক সোহাগ ইব্রাহিম। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি ওই দুই ব্যক্তিকে আইএস-এ যোগ দিতে রাজী করান।
ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বেশ কয়েকটি বৈঠকের পর অন্যদের দলে নেওয়া হয়। রহমান ‘সশস্ত্র জিহাদ’-এর কথা উল্লেখ করে অন্যদের বলেন, তারা বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে ‘অবিশ্বাসীদের’ হত্যা করবেন।
চলতি বছর এপ্রিলে সিঙ্গাপুরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইনের আওতায় ৮ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ওই সময় স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আটক হওয়া ওই আট বাংলাদেশি দাবি করেছেন তারা ইসলামিক স্টেট ইন বাংলাদেশ (আইএসবি) এর সদস্য। গত মার্চে সিঙ্গাপুরে তারা সংগঠনটি গড়ে তোলেন। সিরিয়া ও ইরাকে তৎপর থাকা সশস্ত্র সংগঠন আইএস-এর হয়ে লড়াই ও যোগদানের পরিকল্পনা করেছিলেন ওই বাংলাদেশিরা। তবে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমানোটা কঠিন হয়ে পড়ার কারণে শেষ পর্যন্ত তারা মত পাল্টান। গড়ে তোলেন নতুন পরিকল্পনা। ওই আট বাংলাদেশি দেশে ফিরে সহিংস কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সরকার উৎখাত, একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং তা ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস ঘোষিত খেলাফতের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেন।
এর আগে এপ্রিলে আরও ৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের সম্পর্ক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স।
/এএ/








