ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের ব্রিগেড সেনা দফতরে হামলায় জড়িত থাকার ভারতীয় অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। রবিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাফিস জাকারিয়া বলেন, ‘ভারতের যে কোনও সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের দিকে আঙুল তোলা ভারতের প্রথাগত রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে।
মুখপাত্র বলেন, অতীতে অনেক ভারতীয় সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত থাকলেও ভারত পাকিস্তানকেই এ জন্য দায়ী করেছে।
পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ঘোষণা করতে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্য সম্পর্কে জাকারিয়া বলেন, দখলকৃত কাশ্মিরে ভারত যে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে তা থেকে বিশ্বের নজর সরাতেই রাজনাথ এ কথা বলছেন। সারা বিশ্ব কাশ্মিরে ভারত সরকারের নৃশংসতার বিষয়টি দেখছে। কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। ভারত এ প্রস্তাবে রাজি হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
জাকারিয়া জানান, দখলকৃত কাশ্মিরে যেসব অপরাধ করছে তা লুকিয়ে রাখতে পারবে না ভারত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ জাতিসংঘের সাধারন অধিবেশনে কাশ্মির ইস্যু গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরবেন।
উল্লেখ্য, ১৮ সেপ্টেম্বর (রবিবার) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ভারি অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক কাশ্মিরের উরিতে লাইন অব কন্ট্রোলের নিকটে সামরিক বাহিনীর একটি প্রশাসনিক স্থাপনায় হামলায় চালায়। ওই হামলায় ১৭ সেনা সদস্য ও ৪ হামলাকারী নিহত হন। এখন পর্যন্ত কোনও সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই হামলার দায় স্বীকার করা হয়নি। তবে হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মোহাম্মদকেই সন্দেহ করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে চলতি বছরের প্রথমদিকে পাঞ্জাবের পাঠানপকোটে ভারতের বিমানঘাঁটিতে হামলার জন্যও ওই সশস্ত্র সংগঠনটিকে দায়ী করেছিল ভারত। জঙ্গি এ সংগঠন পাকিস্তানের সৃষ্টি এবং পাকিস্তানে থেকেই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে বলে ভারত দাবি করে আসছে। সূত্র: ডন।
/এএ/








