উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন-এর সৎভাই কিম নামকে হত্যার জের ধরে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে মালয়েশিয়া। শনিবার মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রদূতকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
তিন সপ্তাহ আগে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয় কিম জং নামকে। এরপর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন চলছিল। সর্বশেষ মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রদূত কাং চুল বলেছিলেন, নাম হত্যার তদন্তে মালয়েশিয়ার ওপর আস্থা রাখতে পারছে না তার দেশ। এ মন্তব্যের পর মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থণার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রদূত তা না করায় এ বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।
কিম নামকে হত্যায় উত্তর কোরিয়া ও দেশটির নেতা কিম জং উন জড়িত বলে দাবি করে আসছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা। তবে মালয়েশিয়া হত্যাকাণ্ডের জন্য উত্তর কোরিয়া জড়িত তা কখনও সরাসরি দাবি করেনি।
মালয়েশীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী আনিফাহ আমান এক বিবৃতিতে বলেন, মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে অবমাননাকর ও মর্যাদাহানি করার মতো কিছু ঘটলে দৃঢ়ভাবেই তার জবাব দেওয়া হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর কোরীয় রাষ্ট্রদূতকে এক বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল কিন্তু তিনি তাতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিসামুক্ত ভ্রমণ চুক্তি বাতিল করে মালয়েশিয়া। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদির বরাত দিয়ে বারনামা জানিয়েছে, ভিসা চুক্তি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত ৬ মার্চ থেকে কার্যকর হবে। তখন থেকে উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে হলে ভিসা নিতে হবে।
তার আগে বুধবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কিম জং নাম’কে মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক ‘ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট’ ব্যবহার করে হত্যার মালয়েশীয় কতৃপক্ষের দাবি অযৌক্তিক। এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তিরও অভাব রয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ‘প্রতিকূল আচরণ’ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ‘যোগসাজশ’ করারও অভিযোগ এনেছে উত্তর কোরিয়া। এমন অভিযোগে কিম জং নাম হত্যার তদন্ত বন্ধেরও দাবি জানিয়েছে দেশটি।
ময়নাতদন্ত ও ডিএনএন পরীক্ষা ছাড়া উত্তর কোরিয়ার কাছে নিহত কিম জং-নামের লাশ হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মালয়েশিয়া। মূলত এ অস্বীকৃতির ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
১৩ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে কিম জং নামকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি মালয়েশিয়া থেকে ম্যাকাও যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকার সময় দু’জন নারী তার মুখে বিষাক্ত কেমিক্যাল স্প্রে করেন। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আপানদি আলী জানিয়েছিলেন, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের নাগরিক ওই দুই নারীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলার অভিযোগ আনা হতে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন,‘ওই দুই নারীর বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হবে।’ হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের দুজনেরই মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। সূত্র: বিবিসি।
/এএ/








