পাকিস্তানের স্পিকার আয়াজ সাদিক দেশটির জাতীয় পরিষদের একটি কোড অব কন্ডাক্ট কমিটি গঠনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন। এই কমিটি পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান ইমরান খানের বিরুদ্ধে এমনএন আয়েশা গুলালাইয়ের যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করবে। এ ধরনের আরও যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলোও তদন্ত করবে এই কমিটি।
সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও টিভি জানিয়েছে, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ, পিএমএল-এন)-র চিফ হুইপ শেখ আফতাব এবং বিরোধী দলীয় নেতা খুরশীদ শাহকে এই কমিটির সদস্যদের নাম প্রস্তাব করতে বলেছেন। আফতাবকে ১৩ জন এবং শাহকে ৭ জন সদস্যের নাম দিতে বলা হয়েছে।
এই কমিটির শুনানি ক্যামেরায় ধারণ করা হবে এবং এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। গত মাসে গুলালাইয়ের অভিযোগের পর তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় পরিষদ। প্রস্তাবটি সমর্থন করে ক্ষমতাসীন পিএমএল-এন, পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এবং মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট। প্রস্তাবটিতে ভোটের সময় পিটিআই-র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন না।
কয়েকদিন আগে আয়েশা গুলালাই সংবাদ সম্মেলন করে পিটিআই থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে দলীয় চেয়ারম্যান ইমরান খানের বিরুদ্ধে তিনি দৃশ্যত যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন।
অভিযোগ উত্থাপনের একদিনের মাথায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয় এমএনএ আয়েশা গুলালাইকে। একই সঙ্গে দেশটির জাতীয় পরিষদের আসন থেকে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। গুলালাইকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পিটিআইয়ের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আচরণ করেছেন তিনি। দলের প্রধানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। দল মনোনীত প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীকে ভোট দেওয়া থেকেও বিরত থেকেছেন গুলালাই।
অভিযোগ সম্পর্কে দুই দিন চুপ থেকে বৃহস্পতিবার নীরবতা ভাঙেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও পিটিআই (পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ) নেতা। অভিযোগকে নওয়াজের পরিবার থেকে ছড়ানো গুজব আখ্যা দেওয়ার একদিনের মাথায় ইমরানের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত জানা যায়। সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, একজন নারী হওয়ার কারণে এ সংক্রান্ত মন্তব্যে গুলালাইয়ের জীবন প্রভাবিত হতে পারে। সে কারণে ব্যাপারে আর কোনও মন্তব্য করতে চান না বলে জানান ইমরান।
এরআগে শুক্রবার দলের সাবেক নেত্রী আয়েশা গুলালাইয়ের ওই অভিযোগকে ‘গুজব’ আখ্যা দিয়ে ইমরান শুক্রবার দাবি করেন, এর নেপথ্যে নওয়াজ শরিফ পরিবারের হাত রয়েছে। শনিবারও তিনি একই ধরেনর অভিযোগ করেন।
সর্বশেষ পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনকে আয়েশা গুলালাই জানান, ‘যদি ইমরান খান মেনে নেন তিনি এটা করেছেন, তিনি হয়রানি করেছেন, আল্লাহর কাছে, জাতির কাছে ও নারীদের কাছে ক্ষমা চান তাহলে আমি তাকে মাফ করে দেবো।’ সূত্র: জিওটিভি, ডন।
/এএ/








