সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর পদত্যাগ করা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানের বিচারকদের সমালোচনা করে প্রশ্ন ছুড়ে বলেছেন, দেশে কি এমন কোনও বিচারক আছেন যিনি জেনারেল (অবসর) পারভেজ মোশাররফের মতো স্বৈরাচারের বিচার করতে পারবেন।
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সোমবার ইসলামাবাদে নওয়াজ এই প্রশ্ন তোলেন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে কি এমন কোনও আদালত আছে যা সাবেক স্বৈরাচারের অপরাধের বিচার করতে পারবে?।’
১৯৯৯ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেসময়কার প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অপসারণ করে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান শাসন করেন মোশাররফ। প্রায় এক দশক দেশ শাসন করে তিনি ২০০৮ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান। চার বছর লন্ডন ও দুবাইয়ে কাটিয়ে ২০১৩ সালে নির্বাচনের আগে দেশে ফিরে বেশ কয়েকটি মামলার মুখে পড়েন তিনি। তার ওপর বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বেলুচিস্তানের জাতীয়তাবাদী নেতা আকবার বাগতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভুট্টোকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালের মার্চে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুবাইয়ের উদ্দেশে পাকিস্তান ছাড়েন মোশাররফ। এরপর আর দেশে ফেরেননি।
নওয়াজকে অযোগ্য ঘোষণা করে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় মোশাররফ বলেছেন, পাকিস্তান সেনা সরকারের শাসনে সঠিক পথে ছিল, কিন্তু যখনই তারা ক্ষমতা থেকে সরে গেছে তখনই বেসামরিক সরকার দেশকে বিপথে নিয়ে গেছে।
নওয়াজ জানান, চার বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিভাবে থাকে সবকিছু সামাল দিতে হয়েছে তা সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি অবগত। তিনি বলেন, যদি একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অন্যটিকে শ্রদ্ধা না করে তাহলে এই দেশ কিভাবে চলবে?
নওয়াজ দাবি করেন, ছেলের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বেতন নেওয়ার কথা স্বীকার না করায় কিভাবে তিনি অযোগ্য ঘোষিত হলেন তা নিয়ে সংসদ ও সংসদের বাইরে ব্যাপক বিতর্ক হতে পারে। যে বেতন তিনি গ্রহণ বা উত্তোলন করেননি সেটির জন্য তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
নওয়াজ শরিফ বলেন, আমাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যৌথ তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত না হওয়ার জন্য। কিন্তু আমি হাজির হয়েছি কারণ আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি দাবি করেন, তার পরিবার বিচার এড়ানোর চেষ্টা করছে এমন কোনও ইঙ্গিত দিতে চাননি তিনি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৮ জুলাই) পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি মামলায় নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের রায় দেওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেন।
এর আগে বিচারপতি আসিফ সাইদ খোসার নেতৃত্বে সুপ্রিমকোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে রায় ঘোষণা করেন। সর্বোচ্চ আদালত বলছে, পার্লামেন্ট এবং আদালতের প্রতি সৎ ছিলেন না প্রধানমন্ত্রী, তিনি দায়িত্ব পালনে অযোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। আমিরাতভিত্তিক অফশোর কোম্পানি এফজেডই-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা গোপন করার কারণে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার খানিক বাদেই প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে একটি নোটিশ জারি করা হয়। জারিকৃত নোটিতে বলা যায়, সর্বোচ্চ আদালতের রায় তাকে অযোগ্য ঘোষণা করলেও তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তবে তিনি পদত্যাগ করেছেন। আদালতের নির্দেশে নওয়াজের বিরুদ্ধে দেশটির অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরো তদন্ত শুরু করবে। সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
/এএ/








