রাখাইনে এনভিসি প্রক্রিয়া ‘শিগগির’ শুরু করবে মিয়ানমার

বিদেশ ডেস্ক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৮:২৮আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৮:৫৫

রাখাইনে জাতিগত নিধনযজ্ঞের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে রোহিঙ্গাদের জাতীয় যাচাইকরণ কার্ড (ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড- এনভিসি) প্রক্রিয়া শিগগির শুরু করবে মিয়ানমার সরকার। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী ড. উইন মিয়াত আয়ই এ কথা জানিয়েছেন।

রাখাইনের মংডুতে পুড়িয়ে দেওয়া একটি রোহিঙ্গা গ্রাম। ছবি: রয়টার্স

সরকার পরিচালিত সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমার জানায়, সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছে মংডু শহরের টাউংপাইয়ু লেটিয়ার গ্রামে শিগগিরই এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। এখানে সড়ক পথে বাংলাদেশ থেকে যারা ফিরবে তাদের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে। আর যারা নৌপথে ফিরবেন তাদের যাচাই প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে মংডুর উত্তরে অবস্থিত নগা খু ইয়া গ্রামে।

ড. উইন মিয়াত আয়ই বলেন, যাচাই প্রক্রিয়া শেষে শরণার্থীদের দার গায়ই জার গ্রামে পুনর্বাসিত করা হবে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও ডি ফ্যাক্টো নেতা অং সান সু চির ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনিও জানান, ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ- মিয়ানমারের স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারেই শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

২৫ আগস্ট আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা ৩০টি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালালে সর্বশেষ এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে রাখাইন রাজ্যে। পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার জবাবে পরিচালিত সামরিক অভিযানে ৪ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, স্থানীয় বৌদ্ধদের সহযোগিতায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে। মিয়ানমার সরকার জাতিসংঘের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ১৯৯৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী কেবল মিয়ানমারের বৈধ কাগজপত্রসহ নিবন্ধিতরাই ফিরতে পারবে রাখাইনে। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে মাত্র ৫৮০০ জন নিবন্ধিত। তারাও সবাই রাখাইনে ফিরতে পারবে, এমন নয়। কেননা নিবন্ধিত হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে নাগরিকত্বের প্রমাণ থাকা ব্যক্তিরাই কেবল ফিরে যেতে পারবেন।

ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমারের ২০১৫ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী রাখাইনে তখন থাকা ১০ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড পেয়েছিল ৭ হাজার ৫৪৮জন। এর বাইরে আর কোনও কাগজপত্রই রোহিঙ্গাদের নেই। তাই ৭ হাজার ৫৪৮ জনের বেশি মানুষের মিয়ানমারে ফেরার কোনও সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালের বিতর্কিত বর্ণবাদী নাগরিকত্ব আইনে মিয়ানমারের প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়। এতে মিয়ানমারে বসবাসকারীদের Citizen, Associate এবং Naturalized পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। এমনকি দেশটির সরকার তাদের প্রাচীন নৃগোষ্ঠী হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়নি। ১৮২৩ সালের পরে আগতদের Associate আর ১৯৮২ সালে নতুনভাবে দরখাস্তকারীদের Naturalized বলে আখ্যা দেওয়া হয়। ওই আইনের ৪ নম্বর প্রভিশনে আরও শর্ত দেওয়া হয়, কোনও জাতিগোষ্ঠী রাষ্ট্রের নাগরিক কি না, তা আইন-আদালত নয়; নির্ধারণ করবে সরকারের নীতি-নির্ধারণী সংস্থা ‘কাউন্সিল অব স্টেট’। এ আইনের কারণে রোহিঙ্গারা ভাসমান জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত হয়।

 

/এএ/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম