রাখাইনে জাতিগত নিধনযজ্ঞের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে রোহিঙ্গাদের জাতীয় যাচাইকরণ কার্ড (ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড- এনভিসি) প্রক্রিয়া শিগগির শুরু করবে মিয়ানমার সরকার। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী ড. উইন মিয়াত আয়ই এ কথা জানিয়েছেন।
সরকার পরিচালিত সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমার জানায়, সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছে মংডু শহরের টাউংপাইয়ু লেটিয়ার গ্রামে শিগগিরই এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। এখানে সড়ক পথে বাংলাদেশ থেকে যারা ফিরবে তাদের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে। আর যারা নৌপথে ফিরবেন তাদের যাচাই প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে মংডুর উত্তরে অবস্থিত নগা খু ইয়া গ্রামে।
ড. উইন মিয়াত আয়ই বলেন, যাচাই প্রক্রিয়া শেষে শরণার্থীদের দার গায়ই জার গ্রামে পুনর্বাসিত করা হবে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও ডি ফ্যাক্টো নেতা অং সান সু চির ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনিও জানান, ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ- মিয়ানমারের স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারেই শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
২৫ আগস্ট আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা ৩০টি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালালে সর্বশেষ এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে রাখাইন রাজ্যে। পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার জবাবে পরিচালিত সামরিক অভিযানে ৪ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, স্থানীয় বৌদ্ধদের সহযোগিতায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে। মিয়ানমার সরকার জাতিসংঘের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ১৯৯৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী কেবল মিয়ানমারের বৈধ কাগজপত্রসহ নিবন্ধিতরাই ফিরতে পারবে রাখাইনে। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে মাত্র ৫৮০০ জন নিবন্ধিত। তারাও সবাই রাখাইনে ফিরতে পারবে, এমন নয়। কেননা নিবন্ধিত হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে নাগরিকত্বের প্রমাণ থাকা ব্যক্তিরাই কেবল ফিরে যেতে পারবেন।
ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমারের ২০১৫ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী রাখাইনে তখন থাকা ১০ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড পেয়েছিল ৭ হাজার ৫৪৮জন। এর বাইরে আর কোনও কাগজপত্রই রোহিঙ্গাদের নেই। তাই ৭ হাজার ৫৪৮ জনের বেশি মানুষের মিয়ানমারে ফেরার কোনও সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালের বিতর্কিত বর্ণবাদী নাগরিকত্ব আইনে মিয়ানমারের প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়। এতে মিয়ানমারে বসবাসকারীদের Citizen, Associate এবং Naturalized পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। এমনকি দেশটির সরকার তাদের প্রাচীন নৃগোষ্ঠী হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়নি। ১৮২৩ সালের পরে আগতদের Associate আর ১৯৮২ সালে নতুনভাবে দরখাস্তকারীদের Naturalized বলে আখ্যা দেওয়া হয়। ওই আইনের ৪ নম্বর প্রভিশনে আরও শর্ত দেওয়া হয়, কোনও জাতিগোষ্ঠী রাষ্ট্রের নাগরিক কি না, তা আইন-আদালত নয়; নির্ধারণ করবে সরকারের নীতি-নির্ধারণী সংস্থা ‘কাউন্সিল অব স্টেট’। এ আইনের কারণে রোহিঙ্গারা ভাসমান জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত হয়।








