মিয়ানামারের রাখাইনে বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের পুনর্বাসন পরিকল্পনায় সহযোগিতার খবর অস্বীকার করেছে জাতিসংঘ। মিয়ানমার সরকারের এ প্রকল্পে জাতিসংঘ সহায়তা করছে এমন দাবি করে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের আবাসন সংস্থা ইউএন হ্যাবিট্যাট জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের আবাসন প্রকল্পে জাতিসংঘের সহযোগিতার খবরটি সত্য নয়। শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনায় মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে পড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলেই রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের আচরণের সমালোচনা করেছিল জাতিসংঘ।
২৫ আগস্ট রাখাইন প্রদেশে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ চালানো শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এখনও হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে আসতে না পেরে খাদ্যাভাবে দিন কাটাচ্ছে রাখাইনে। কারণ তাদের ফসল ও বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার দাবি করে, জাতিসংঘর আবাসন বিষয়ক সংস্থা রাখাইনে বাস্তুহারাদের পুনর্বাসনে সহযোগিতা করতে একমত হয়েছে এবং সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছ।
তবে মিয়ানমারের জাতিসংঘের আবাসন বিষয়ক সমন্বয়কের মুখপাত্র স্তানিস্লাভ সালিং বলেন, চলতি সপ্তাহে মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা বৈঠক করলেও এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। রয়টার্সকে পাঠানো এক ইমেইল বার্তায় তিনি বলেন, জাতিসংঘের আবাসন মিশন এই পুনর্বাসের উপর জোর দিয়েছে। পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সসম্মানে ফিরিয়ে নিয়ে এসে তাদের বসবাসের ব্যবস্থা করা উচিত। আন্তর্জাতিক নীতি ও আদর্শ মেনে মিয়ানমার সরকারের পুনর্বাসনের উদ্যোগকে জাতিসংঘ স্বাগত জানায় বলেও জানান তিনি।
জাতিসংঘের রীতি অনুযায়ী অবৈধভাবে উচ্ছেদ করা সকল শরণার্থীদের তাদের সম্পদ ও জমির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
এদিকে মিয়ানমারের সামাজিক কর্মকাণ্ড বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব সো অং দাবি করেন, জাতিসংঘ তাদের সহায়তা করতে রাজি হয়েছ। আগামী ৮ নভেম্বর আবার দুই পক্ষ আলোচনায় বসবে। তিনি বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘের সঙ্গে কারিগরি সহায়তা বিষয়ক এক সমঝোতায় পৌঁছেছি। এটা কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।’
মিয়ানমারের সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা দেশটির নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে পারলে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরলেও জমি, ভিটে ও ফসল ফিরে পাবে না। এ বিষয়ে সু চি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি।
মিয়ানমারের অভিযোগ, জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বিদ্রোহী রোহিঙ্গাদের খাদ্য সরবরাহ করছে। এরপর রাখাইনে সবরকম ত্রাণ সংস্থার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে মিয়ানমার সরকার।
এর আগে বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তারা রাখাইন থেকে আংশিক সেনা প্রত্যাহার করবে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রাখাইনের সহিংসতা কবলিত মংডু ও বুথিডাউং শহর থেকে আংশিক সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় তারা।








