রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশ সফরে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ উচ্চারণ করায় মিয়ানমারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বাংলাদেশ আসার আগে মিয়ানমারে পোপ প্রকাশ্যে রাখাইনের মুসলিম জনগোষ্ঠকে রোহিঙ্গা হিসেবে আখ্যায়িত করেননি। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার রাজধানী ঢাকায় পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের সময় পোপ তাদেরকে ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের জাতিগত স্বীকৃতি দেয় না। দেশটির সরকার, সেনাবাহিনী ও সংখ্যালঘু বৌদ্ধ সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের বাঙালি অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দাবি করে।
মিয়ানমার সফরে পোপ ফ্রান্সিস প্রকাশ্যে রোহিঙ্গা শব্দ উচ্চারণ করেননি। দেশটির সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে পোপকে রোহিঙ্গা উচ্চারণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সফর শেষে ভ্যাটিকানে ফিরে গিয়ে রোহিঙ্গা উচ্চারণে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন পোপ। রোহিঙ্গা শব্দটির ব্যবহার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে বারবার আমি রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয়েই তাদের কথা বলেছি। এমন নয় যে বাংলাদেশে গিয়ে আমি প্রথম রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করলাম।
রোহিঙ্গা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের বিবরণও দেন তিনি। পোপ বলেন, আমি কেঁদেছি। আমি এমনভাবে কাঁদতে চেয়েছি যেনও তা দেখা না যায়। তারাও কেঁদেছে।
পোপের এই মন্তব্যের পর মিয়ানমারে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দেশটির নাগরিকরা। এক ফেসবুক ব্যবহারী বলেন, তিনি টিকটিকির মতো। আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে তারা চেহারাও পাল্টে গেছে।
আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, তার একজন বিক্রয়কর্মী ও দালাল হওয়া উচিত ছিল। কারণ ধর্মীয় নেতা হওয়ার পরও তিনি ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করছেন।
অন্য আরেকজন লিখেছেন, পোপ একজন পবিত্র মানুষ। কিন্তু তিনি এখানে (মিয়ানমার) যা বলেছেন আরেক দেশে গিয়ে অন্য কথা বলছেন। সত্য ভালোবাসলে তার একই বিষয় বলা উচিত ছিল।








