আফগানিস্তানে ধারাবাহিক বোমা হামলায় আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হওয়ায় দেশটিতে কার্যকর শান্তি আলোচনা শুরুর পরামর্শ দিয়েছে পাকিস্তান। তাদের আশা, আগামী মাসে কাবুলে অনুষ্ঠিতব্য আঞ্চলিক দেশগুলোর আলোচনায় এই প্রস্তাব দিতে পারেন আফগান নেতারা। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে আফগানিস্তানের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো অংশ নেবে। থাকবে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোও। এই উদ্যোগে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহিংসতা কমানোর চেষ্টা করা হবে।
তালেবান ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনায় আফগানিস্তান সরকারই যেন সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিষয়টিও দেখা হবে এই আলোচনায়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ‘পাকিস্তান আশা করে কাবুল শান্তি আলোচনায় সমাধান বের করতে আফগানিস্তানই নেতৃত্ব দেবে।’ তিনি বলেন, ‘আফগান নেতাদের এমন একটি পরিকল্পনা করতে হবে যেন সবাই আলোচনার টেবিলে বসে।’
পাকিস্তান বারবার বলে আসছে, আফগানিস্তানের সংকট সমাধানের একমাত্র পথ রাজনৈতিক শান্তি আলোচনা। পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ড. মুহাম্মদ ফয়সাল বলেছেন, ‘গত ১৬ বছর ধরে সেখানে সামরিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু এতে ইতিবাচক কিছু হয়নি। বরং আফগান নাগরিকদের দুর্দশা বেড়েছে।
আফগান সরকার ও হিজব-এ-ইসলামির মধ্যকার শান্তিচুক্তিটি এই আলোচনার মডেল হতে পারে বলে মন্তব্য করেন ড. মুহাম্মদ ফয়সাল। তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় আফগান নেতৃত্বের এগিয়ে আসা খুবই জরুরি।
তবে কাবুলের সাম্প্রতিক সহিংসতায় এই শান্তি আলোচনা খুব শিগগিরই শুরু হবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিচ্ছে।
শনিবার কাবুলে অ্যাম্বুলেন্স হামলায় শতাধিক বেসামরিক নিহত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।
কাবুল সম্মেলনে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে উচ্চপদস্থ এক প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসলামাবাদের কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি পাকিস্তানের বেশ কিছু প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে আফগানিস্তান। স্বাভাবিকভাবেই এতে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান। তারা আরও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক চায়। পাকিস্তানি কর্মকর্তা বলেন, এই প্রস্তাব মেনে নেওয়া হলে দুই দেশের দূরত্ব কমে সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র আর তাদের মিত্ররা ধারাবাহিক অভিযোগ করে আসছে, আফগান তালেবান ও তাদের মিত্র হাক্কানি নেটওয়ার্ককে পাকিস্তানে ‘নিভৃত আবাস’ গড়ে তোলার সুযোগ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ। নতুন বছরের প্রথম টুইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিথ্যাচার ও সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ তুলে পাকিস্তানে সহায়তা বন্ধের হুমকি দেওয়ার পর ৫ জানুয়ারি নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিতের ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। এরপর থেকেই উভয় দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কিছুদিন আগে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসি বলেছেন ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে মদদের অভিযোগ করা হলেও এটা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মন্তব্য। তার দাবি, ট্রাম্পের ওই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন হলে তা টুইটার পোস্টেই সীমাবদ্ধ থাকত না। আনুষ্ঠানিকভাবে কাগজে কলমে লিখে নিজেদের অবস্থান জানাত ওয়াশিংটন।








