মালদ্বীপের প্রধান বিচারপতি আব্দুল্লা সাঈদকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘুষ গ্রহণ ও অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারির পরই গ্রেফতার করা হয়েছিল প্রধান বিচারপতি আব্দুল্লা সাঈদকে । পুলিশ জানায়, সরকার উৎখাতের চেষ্টায় প্রধান বিচারপতি জড়িত বলে তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার মালদ্বীপের জুডিশিয়াল সার্ভিসেস কমিশন (জেএসসি) জানায়, প্রধান বিচারপতি আব্দুল্লা সাঈদকে তার দায়িত্ব পালন করা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আরেক বিচারপতি আলি হামিদকেও বরখাস্ত করেছে জেএসসি। উভয় বিচারপতিকে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া একটি ঐতিহাসিক আদেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মালদ্বীপে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। রাষ্ট্রপ্রধানের ভাষ্য, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নির্বাহী ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল। জরুরি অবস্থা জারির পর মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত আইনে কঠোরতা আনা হয়। শুরু থেকেই সংকট নিরসনের ব্যাপারে ভারতের হস্তক্ষেপ চেয়ে আসছে মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট।
বুধবার মালদ্বীপের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ প্রধান অভিযোগ করেন, প্রধান বিচারপতি আব্দুল্লাহ সাঈদ এবং বিচারপতি আলি হামিদ ওই রায় প্রদানের বিনিময়ে বিরোধী রাজনীতিকদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন। ঘুষ আদান-প্রদানের প্রমাণ পুলিশের কাছে আছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পুলিশ প্রধান দাবি করেন, গ্রেফতারকৃত জুডিশিয়্যাল কমিশনের প্রশাসক হাসান সাঈদের ‘বিছানার নিচ থেকে নগদ টাকা’ পেয়েছে পুলিশ। ঘুষ হিসেবে পাওয়া অর্থগুলো থেকে আবার অন্য বিচারপতিদের ঘুষ দিয়ে তিনি বিচার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধান বিচারপতির দেওয়া ঐতিহাসিক রায়ে বিরোধী ৯ নেতার বিরুদ্ধে আনা সরকারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তাদেরকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে গত বছর সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বরখাস্ত হওয়া বিরোধীদলের ১২ সংসদ সদস্যকেও পুনর্বহালের আদেশ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুই বিচারপতি গ্রেফতার হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ৯ রাজনীতিককে মুক্তির আদেশ দিয়ে জারি করা রুলটি প্রত্যাহার করে নেন বাকি তিন বিচারপতি। সূত্র: সান অনলাইন।








