ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে দূতাবাসের একটি গাড়ির দ্রুত বেরিয়ে যাওয়া এবং ওই সময় একজন পাকিস্তানি মোটরসাইকেল চালকের নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পাকিস্তান। নিহতের পরিবার গাড়ি চালকের বিচার দাবি করলেও, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাদের দেওয়া বিবৃতিতে কূটনৈতিক দায়মুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওচিত্র থেকে দেখা যায়, এপ্রিলের ৭ তারিখ সাদা রঙয়ের গাড়িটি ইসলামাবাদের একটি রাস্তা পার হওয়ার সময় দুইজন আরোহী থাকা মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে একজন আরোহী নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম আতিক বেগ। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ২২ বছর। মূলত মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। অপর আরোহী তার আত্মীয়। তার ব্যক্তির নাম রাহিল আহমেদ।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের গাড়িটি যখন রাস্তা পার হচ্ছিল, তখন রাস্তায় লাল আলো জ্বলছিল। অর্থাৎ গাড়িটির তখন রাস্তা পার হওয়ার কথা ছিল না। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহসান ইকবাল টুইটারে মন্তব্য করেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের একজন কূটনীতিকের সংশ্লিষ্টতা থাকা যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে তাতে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের স্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটতে দেখা গেছে।’ নিহত মোটরসাইকেল চালকের পিতা ওই গাড়ি চালককে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পাকিস্তানে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করার এ খবর জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের একজন কূটনীতিকের সংশ্লিষ্টতা থাকা যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে তাতে স্পষ্টতই ট্রাফিক আইন ভঙ্গ হতে দেখা গেছে।’
পাকিস্তানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে তারা সহযোগিতা করছে এবং নিহত ও আহত ব্যক্তির পরিবার দুটির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। তবে তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির ভাষ্য হচ্ছে, ‘বিচার স্থানীয় আইন এবং ১৯৬১ সালের কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা চুক্তি অনুযায়ী চলবে।’ এর মাধ্যমে তারা কূটনৈতিক দায়মুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বলে মনে করে এবিসি নিউজ। সূত্র: এবিসি নিউজ, রেডিও ফ্রান্স ইউরোপ।








