জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড নেশন হাইকমিশন ফর রিফিউজিস (ইউএনএইচসিআর) বৃহস্পতিবার বলেছে, বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে মিয়ানমারের মন্ত্রীর পরিদর্শনে যাওয়াটা আস্থা ফিয়ে আনতে নেওয়া একটি পদক্ষেপ। তবে মিয়ানমারের অবস্থা এখনও রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার অনুকূল হয়ে ওঠেনি। বার্তাসংস্থা রয়টার্স লিখেছে, মিয়ানমারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী উইন মিয়াট আয়ে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে জনা পঞ্চাশেক রোহিঙ্গার সামনে তাদের প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার পক্ষ থেকে এই বক্তব্য এলো।
ইউএনএইচসিআরের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছাপ্রসূত, সুরক্ষিত, সম্মানজনক ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ এখনও মিয়ানমারে তৈরি হয়নি।’ সংস্থাটি আরও বলেছে, প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব মিয়ানমারে সরকারেরই। গত ৫ মার্চেও সংস্থাটি তাদের দেওয়া বিবৃতিতে একই পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছিল। সেই বিবৃতিতে তারা বলেছিল, ‘ইউএনএইচসিআর আবারও জানাতে চায়, ফিরে যাওয়ার জন্য পরিস্থিতি এখনও রোহিঙ্গাদের অনুকূলে নয়। যেসব কারণে তারা পালাতে বাধ্য হয়েছে, সেসবের বিষয়ে এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা এই বক্তব্যই পুনর্ব্যক্ত করছি, রোহিঙ্গাদের অধিকার হরণের প্রশ্নে এখনও অনেক আগ্রগতি করার সুযোগ রয়েছে। যেসব কারণে রোহিঙ্গারা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে তাদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরির বিষয়টি এখনও একটি জটিল বিষয় হয়েই রয়েছে।’
মিয়ানমারের পরিস্থিতি প্রত্যবাসসনের অনুকূল হয়েছে কিন আদেখতে ইউএনএইচসিআর অনেক আগেই মিয়ানমারের কাছে দাবি জানিয়েছে, যেন তাদের দেশটিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। তারা সেখানে বিনা বাধায় পরিস্থিতি পরিদর্শন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও সমাজে আবার স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করার বিষয়টি নিশ্চিত হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করতে চায়।
মিয়ানমারের সমাজকল্যাণমন্ত্রীই রাখাইনে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত কার্যক্রমের প্রধান। তিনি স্বীকার করেছেন, রোহিঙ্গাদের মনে প্রত্যাবাসন নিয়ে অবিশ্বাস ও ভীতি কাজ করছে। তারপরও তিনি রোহিঙ্গাদের অতীতের কথা ভুলে মিয়ানমারে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, মিয়ানমারে ফেরত গেলে রোহিঙ্গাদের জন্য হাসপাতাল ও বিদ্যালয়সহ নতুন গ্রাম নির্মাণ করে দেওয়া হবে।








