দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার তিনজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার বদলি হওয়ার পর থেকে থেকে তারা উত্তর কোরিয়ার ঘটনাপ্রবাহের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই ওই তিন সামরিক কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়ে থাকতে পার—সম্মেলনের বিরুদ্ধে যাতে কোনও বাধা না আসে। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য ট্রাম্প-কিম সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে আলোচনা হবে।
এএফপির মতে, উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী অত্যন্ত প্রভাবশালী। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কোরিয়ান পিপলস আর্মি’ নামে পরিচিত উত্তর কোরীয় সেনাবাহিনী তার নিজের সামর্থের কারণেই ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকে। কিম জং উন যখন গুরুত্বপূর্ণ কোনও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন তখন তার এক পাশে শুধু সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা থাকেন, অন্য পাশে বাকিরা। সেই সেনাবাহিনীর উচ্চ পদে রদবদলের পরিণতি কি হতে পারে তা নিয়ে চিন্তিত ট্রাম্প-কিম সম্মেলনের মধ্যস্থতাকারী দক্ষিণ কোরিয়া।
গত মাসের শেষের দিকে উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত প্রভাবশালী সংস্থা ‘জেনারেল পলিটিকাল ব্যুরোর’ পরিচালকের পদ থেকে কিম জং গাককে অপসারণ করে সে স্থানে কিম সু গিলকে নিয়োগ করা হয়েছে। ইয়ানহপ সংবাদমাধ্যম গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে সেনাপ্রধান রি মিয়ং সুকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নতুন সেনাপ্রধান হয়েছেন রি ইয়ং গিল। এছাড়াও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাক ইয়ং সিককে সরিয়ে দিয়ে সে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নো কোয়াং চোলকে। তিনি আগে ‘ফার্স্ট ভাইস মিনিস্টার’ ছিলেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার পুনরেকত্রীকরণমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, উচ্চ পর্যায়ে এমন পাইকারি বদলির ঘটনা স্বাভাবিক নয়। মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘পরিস্থিতির গতিবিধির প্রতি আমরা দৃষ্টি রাখব।’








