গত ঈদে আফগানিস্তান সরকার ও আফগান তালেবানের মধ্যে তিন দিনের অস্ত্রবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর সংগঠনটির যোদ্ধারা বাধাহীনভাবে আফগানিস্তানের কাবুলে প্রবেশ করে। এ সময় তাদেরকে নারীদের সঙ্গে সেলফি তুলতেও দেখা যায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, তালেবান শাসনের সময় নারীদেরকেই সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত হতে হয়েছিল। আর এখন সেলফি তোলা নারীর সঙ্গে একই ফ্রেমে আসতে আপত্তি দেখাচ্ছে না আফগান তালেবান। সেসব ছবি দেখে তালেবানের হাতে নিগৃহীত নারীর ক্রোধের কথাও উঠে এসেছে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে।
ওই অস্ত্রবিরতি কার্যকরের সময় তালেবান সদস্যরা দেশটির সেনা সদস্যদের সঙ্গে একত্রে নামাজ পড়েছে। তারপর গল্প-আড্ডায় মেতেছে স্থানীয়দের সঙ্গে। তাদের এক সঙ্গে কাবুলের রাস্তায় ঘুরতে দেখা গেছে। এদের কেউ কেউ শহরের আইসক্রিমের দোকানে ঢুঁ মেরেছে। নাগরিকদের কেউ কেউ তাদের সঙ্গে সেলফিও তুলেছেন। এসব সেলফির মধ্যে মুখ অনাবৃত নারীদেরও দেখা গেছে, যাদের সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হতে আপত্তি করেনি ওই তালেবান যোদ্ধারা।
কাবুল ছাড়াও আফগানিস্তানের বাঘলান ও জালালাবাদের মতো শহরেও নারীদের সেলফিতে দেখা গেছে তালেবান যোদ্ধাদের। এসব ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে দ্রুত গতিতে। গার্ডিয়ান লিখেছে, এসব ছবিতে এক দিকে যেমন রয়েছে রক্ষণশীল চরমপন্থীরা, অন্যদিকে তেমন রয়েছে আত্মবিশ্বাসী প্রগতিশীল নারীরা।
এমনি একটি ছবি তুলেছেন আফগান আলোকচিত্রী ফারজানা ওয়াহিদি। ওই সেলফিতে ফারজানার সঙ্গে দেখা দেখা গেছে কয়েকজন তালেবান যোদ্ধাকে। ফারজানা সেদিন চোখে দিয়েছিলেন সবুজ রঙের আই লাইনার। তার চুলও ছবিতে স্পষ্ট। মুখ ছিল অনাবৃত। তারপরও তালেবানরা ওই ছবি তুলতে আপত্তি করেনি। অথচ তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ফারজানার সজ্জা তাদের ক্রোধান্বিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল।
বাঘলান প্রদেশের রাজধানী পুল-ই-খুমরির একজন কর্মকর্তা ৫০ বছর বয়স্ক হানিফা মাজিদ মন্তব্য করেছেন, ‘আমি মনে করি নারী সম্পর্কে যে মূল্যায়ন তালেবানের ছিল তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। তাদের শাসনকালে তারা নারীদের হুমকির মধ্যে রেখেছিল এবং নারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে নারী স্বাধীনতার বিষয়ে তাদের কিছু মাত্রায় উদার হতে হয়েছে।’ হানিফা মাজিদের সঙ্গেও তালেবান যোদ্ধারা ছবি তুলেছে; নারীর সঙ্গে ছবি তোলার বিষয়ে আপত্তি জানাতে দেখা যায়নি তাদের। অথচ ৯০-এর দশকে এমন পরিস্থিতি অভাবিত ছিল।
হানিফা মাজিদ তালেবান যোদ্ধাদের সম্পর্কে বলেছেন, তালেবান যোদ্ধারাও যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত। হানিফাকে বিস্মিত করে দিয়ে তালেবান যোদ্ধারা তার সঙ্গে হাসি মুখে কথা বলাও শুরু করেছিল। তাদেরকে যুদ্ধ শেষ করার অনুরোধ করেছেন হানিহা মাজিদ।
কিন্তু এসবে অতীতের বেদনা ভুলতে পারছেন না অনেক নারী। ২৪ বছর বয়সী সাদিয়া তাজালি এমন একজন। টনি জানিয়েছেন, ‘আমরা তালেবান নিয়ন্ত্রিত পাঞ্জশিরে থাকতাম। কাবুলে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য যখন আমি আর আমার মা বের হতাম তখন তালেবান পুলিশ আমাদের মারত, সঙ্গে কোনও পুরুষ সঙ্গী না থাকায়। আমি যখন নারীদের সঙ্গে তালেবান যোদ্ধাদের ওই ছবিগুলো দেখলাম তখন রাগে-ক্ষোভে আমি কাঁপছিলাম।’








