থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া কিশোর ফুটবলারদের চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা রাশিয়া গিয়ে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ফিফা সভাপতি। গত দুই দিনে আট জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।মঙ্গলবার বাকি কিশোর ও তাদের কোচকে উদ্ধার করা হতে পারে। ফলে রাশিয়ায় গিয়ে মাঠে বসে ফাইনাল খেলা দেখার সুযোগ ছিল তাদের সামনে। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ তাদের হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ফলে ফিফা সভাপতির প্রস্তাব তারা গ্রহণ করতে পারবে না।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গুহায় আটকে পড়া কিশোরদের উৎসাহ ও মনোবল যোগাতে এক চিঠি পাঠিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে তিনি ওয়াইল্ড বোর নামের ওই দলটিকে ১৫ জুলাইয়ের আগেই উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করেছিলেন।
থাইল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে লেখা চিঠিতে জিয়ান্নি লিখেছেন, ‘আমরা সবাই আশা করছি কিশোর ফুটবলাররা সুস্থভাবে নিজেদের পরিবারের কাছে ফিরে যাবে। তারা অতিথি হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে উপস্থিত থাকলে ফিফা খুবই আনন্দিতবোধ করবে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি ফাইনালে আপনারা উপস্থিত হতে পারবেন।
মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে থাইল্যান্ডের দেশটির স্থায়ী স্বাস্থ্য সচিব জেসাদা চোকেদাম্রংসুক জানান, প্রাথমিক রক্ত পরীক্ষায় সব কিশোরের শরীরে সংক্রমণের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হাসপাতালে তাদের এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। দীর্ঘদিন অন্ধকারে থাকা তাদের এখন সানগ্লাস পরানো হয়েছে। এছাড়া দুই কিশোরের এক্স-রেতে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েছে। সংক্রমণ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রাথমিক রক্ত পরীক্ষায় সব কিশোরের শরীরে সংক্রমণের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হাসপাতালে তাদের এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন ফুটবল অনুশীলন শেষে ২৫ বছর বয়সী কোচসহ ওই ১২ কিশোর ফুটবলার গুহাটির ভেতরে ঘুরতে গিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে গুহার প্রবেশমুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আর বের হতে পারেনি। এরপর টানা ৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২ জুলাই গুহার ভেতরে জীবিত অবস্থায় তাদের শনাক্ত করেন ডুবুরিরা। রবিবার (৮ জুলাই) থাইল্যান্ড সরকার তাদের উদ্ধারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ওই দিন চার জনকে এবং সোমবার আরও চার জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ১০ টা ৮ মিনিটে অবশিষ্ট ৫ জনকে উদ্ধারের জন্য ১৯ জন ডুবুরি গুহায় প্রবেশ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে সন্ধ্যার মধ্যেই সবাইকে বের করে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।








