দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠান শিনিল মেরিন দাবি করেছিল, ডুবে যাওয়া রুশ যুদ্ধ জাহাজ দিমিত্রি ডন্সকিতে উদ্ধার অভিযান চালালে ১৩ হাজার কোটি ডলার মূল্যের সোনা পাওয়া যাবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটি ওই দাবি থেকে সরে এসেছে। জাহাজে ২০০ টন সোনার থাকার দাবিতে এখনও অনড় থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি ওই পরিমাণ সোনার মূল্য অতিরঞ্জিত করে প্রকাশ করার জন্য ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছে, ওই গুপ্তধনের প্রকৃত মূল্যের প্রায় ১৫ গুণ আগে উল্লেখ করা হয়েছিল। অনুমানিক ২০০ টন সোনার মূল্যকে এখন প্রায় ৯০০ কোটি ডলার বলে দাবি করেছে শিনিল। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির এমন ত্রুটিপূর্ণ তথ্য উপস্থাপনের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, শেয়ারের মূল্য নিয়ে কারসাজির কোনও ষড়যন্ত্র হয়ে থাকতে পারে।
শিনিল মেরিন নামের দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠানটি ১৯০৪-১৯০৫ সালে রাশিয়া-জাপান যুদ্ধের সময় সাগরে ডুবে যাওয়া রুশ যুদ্ধজাহাজ দিমিত্রি ডন্সকিতে ১৩ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের সোনা থাকার দাবি করেছিল। দিমিত্রি ডন্সকি নামের ওই রুশ যুদ্ধজাহাজটির ওজন ২০০ টন। এটি এখন সমুদ্রের ৪০০ মিটার নিচে রয়েছে। এর অবস্থান পূর্ব সাগরের উল্লুং দ্বীপের কাছে। অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান শিনিল দাবি করেছিল, মাসখানেকের মধ্যে তারা ওই জাহাজটি পানির ওপর তুলে আনতে পারবে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ জাহাজে ওই পরিমাণ সোনা থাকার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের ভাষ্য, ডন্সকি খুবই ভারি জাহাজ। জাহাজটিতে ১২টি কামান ছিল। ৫০০ নাবিক ছিল। এতে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টন কয়লাও থাকার কথা। এরপর ওই জাহাজে এত বিশাল পরিমাণ সোনা রাখার স্থান বের করা কষ্টকর। রুশ বিশেষজ্ঞরা আগে বলেছিলেন, তৎকালে একটি মাত্র জাহাজে রাশিয়ার এত বিশাল পরিমাণ সোনা পরিবহন করার ঘটনা স্বাভাবিক নয়। একসঙ্গে ওই পরিমাণ সোনা পরিবহনের প্রয়োজন হলে তাদের ট্রেন ব্যবহার করার কথা। তবে কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়ার জন্য জাহাজে কিছু স্বর্ণমুদ্রা থেকে থাকতে পারে!
শিনিল মেরিনের প্রধান নির্বাহী চোয়ে অং সেওক বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘প্রতিবেদন থেকে আমরা জেনেছিলাম ডন্সকিতে ২০০ টন সোনা রয়েছে। তবে তার বর্তমান বাজার মূল্য ১০ লাখ কোটি ওন (প্রায় ৯০০ কোটি ডলার)। ত্রুটিপূর্ণ তথ্য দেওয়ার জন্য আমরা দুঃখিত।’ অথচ ২০ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ২০০ টন শোনা রয়েছে এবং তার বাজার মূল্য ১৩ হাজার কোটি ডলার। অর্থাৎ যদি বাজার মূল্যের তুলানয় আগের বার প্রায় ১৫ গুণ বেশি মূল্যের কথা উল্লেখ করেছিল শিনিল মেরিন।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ডুবুরিরা পানির নিচে গিয়ে দেখেছেন জাহাজের ভেতর শক্ত করে বাধা অনেকগুলো বাক্স রয়েছে, যেগুলোর ভেতর নিশ্চিতভাবেই মূল্যবান কিছু থাকার কথা। যে রুশ নথির বরাত দিয়ে শিনিল মেরিন জাহাজে সোনা থাকার দাবি করছে সেই নথির উৎস সম্পর্কে কোনও তথ্য দেয়নি তারা।
বাক্সগুলোতে যা আছে তা ‘নিশ্চিতভাবেই সোনার বার বা কয়েন’ দাবি করলেও তারা জানিয়েছে, দিমিত্রি ডন্সকিতে থাকা সোনার কোনও ছবি তারা তুলতে পারেনি এখন পর্যন্ত!
দক্ষিণ কোরিয়ার ‘ফিনানশিয়াল সুপারভাইজরি সার্ভিস’ (এফএসএস) উল্লেখ করেছে, শিনিলের মালিক জেইল স্টিলে বিনিয়োগ করছেন এমন খবরে জেইল স্টিলের শেয়ারের মূল্য ১৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, ‘পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য নিয়ে কারসাজির চেষ্টা করা হচ্ছে।’








