জাপানের বিখ্যাত একটি মেডিক্যাল কলেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা ভর্তি পরীক্ষায় নারী শিক্ষার্থীদের নম্বর বেশ কয়েক বছর ধরে কমিয়ে দিয়ে আসছে। তাদের লক্ষ্য, ভর্তি হতে সক্ষম শিক্ষার্থীদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের ৩০ শতাংশের সীমাবদ্ধ রাখা! এ অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত টোকিও মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বৈষম্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এ বিষয়ে জাপানিরা অ্যাবে সরকারের সমালোচনা করেছে। কারণ তার সরকার এক দিকে নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে চেষ্টা করার কথা বলে আসছে। আর অন্যদিকে তার আমলেই নারী শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
জাপানের সবচেয়ে বড় দৈনিক পত্রিকা ইয়োমিউরি শিমবুন গত বৃহস্পতিবার নম্বর কমিয়ে দেওয়ার এ ঘটনার কথা ফাঁস করেছে তাদের প্রতিবেদনে। ইয়োমিউরি শিমবুনকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি ‘নীরব সমঝোতা’ হয়ে রয়েছে। তারা কম সংখ্যক নারী শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার পক্ষে। কারণ তারা মনে করে, বেশিরভাগ নারী শিক্ষার্থীই পড়াশোনা শেষ করে পেশাজীবী চিকিৎসক হবেন না। তারা সংসার সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর কমিয়ে দিয়ে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার তৎপরতা শুরু হয় ২০১১ সাল থেকে। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০১০ সালে, ওই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ শতাংশের মতো নারী শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। এ বছর দুই দফা ভর্তি আবেদন বাছাই শেষে ৩০ জন নারী শিক্ষার্থীকে নেওয়া হয়েছে। যেখানে পুরুষ শিক্ষার্থী নেওয়া হয়েছে ১৪১ জন।
জাপানে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের বিষয়টি একটি আলোচিত বিষয়। কারণ শিনজো আবের অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে সেটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ঐতিহাসিকভাবেই জাপানে বিশেষায়িত পেষায় নারীর উপস্থিতি কম। দেশটিতে এখন আইনপ্রণেতা, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকদের মাত্র ১২.৪ শতাংশ নারী।
নারী শিক্ষার্থীদের নম্বর কমিয়ে দেওয়ার এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘এটা আর পশ্চাৎপদ মানসিকতার বিষয় বলে ধরে নেওয়া সম্ভব নয়।’ মন্তব্যটি ৩০ হাজার লাইক পেয়েছে। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ওই বেসরকারি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি অনুদান বাতিল করে দেওয়া উচিত।








