জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সামরিক তৎপরতা চালাচ্ছে। দেশটি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহের চেষ্টা করেছে। আসাদ সরকারের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে সিরিয়াতে পাঠিয়েছে তাদের দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের। তাছাড়া, উত্তর কোরিয়া এখনও গোপনে পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কৌশলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে। ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রতিবেদনটি শুক্রবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের হাতে পৌঁছেছে।
উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তকারীদের প্রস্তুত করা প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া অবৈধভাবে জাহাজ থেকে জাহাজে হস্তান্তরের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছে। এ কাজের সময় তারা জাহাজের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা অকার্যকর করে রাখে এবং বাহ্যিকভাবে এমন পরিবর্তন করে যাতে জাহাজটিকে দেখে চেনা না যায়। এমন কি তারা ছোট ছোট জলযানও ব্যবহার করছে অবৈধভাবে পণ্য পরিবহনের জন্য। এই বিষয়টি অনেক বড় আকারে ঘটতে শুরু হয়েছে। তেলের পাশাপাশি তারা এভাবে কয়লাও পরিবহন করছে।
সামরিক প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পগুলো বন্ধ করেনি। গোপনে চলছে তাদের তৎপরতা। এর পাশাপাশি তারা ইয়েমেনের হুথিদের কাছে অস্ত্র বিক্রির চেষ্টা চালিয়েছে। ২০১৬ সালের ১৩ জুলাই লেখা একটি চিঠি জাতিসংঘের তদন্তকারীদের হাতে পড়েছে। চিঠিতে হুথি নেতার পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয়দের সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে সাক্ষাতের অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠির ভাষ্য অনুযায়ী যার উদ্দেশ্য, ‘প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অন্যান্য যৌথ স্বার্থের বিষয়ে আলোচনা করা!’ উত্তর কোরিয়া পরবর্তীতে লিবিয়া ও সুদানের মতো দেশের সহায়তায় হুথিদের ছোট ও হালকা অস্ত্র সরবরাহের চেষ্টা চালিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা সর্বশেষ ২০১৭ সালেও সিরিয়া সফর করেছেন।
উত্তর কোরিয়া ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস থেকে ২০১৮ সালের মার্চ মাসের মধ্যে রফতানি নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করেছে। ওই সময়কালে দেশটি ১০ কোটি ডলারের টেক্সটাইল পণ্য রফতানি করেছে চীন, ঘানা, ভারত, মেক্সিকো, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও উরুগুয়েতে।
রয়টার্স লিখেছে, প্রতিবেদনটি এমন এক সময় সংবাদমাধ্যমের হাতে এসে পৌঁছাল যখন চীন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করছে উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার জন্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র পরিত্যাগের কর্মসূচি করতে সব দিক থেকে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রাখার কৌশল এর একটি।
সম্প্রতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, দেশটি নতুন করে উত্তর কোরীয় শ্রমিকদের রাশিয়াতে কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে। রাশিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাছাড়া রাশিয়ার ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে উত্তর কোরিয়ার ‘ফরেন ট্রেড ব্যাংকের’ (এফটিবি) মস্কো শাখার কর্মকর্তাদের ওপর শুক্রবার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। উত্তর কোরীয় ওই কর্মকর্তাদের রাশিয়া থেকে বহিষ্কারেরও আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।








