‘কার্ডে লেখা শব্দের চেয়ে রোহিঙ্গাদের পরিচয় আরও বেশি কিছু’

বিদেশ ডেস্ক
১৬ আগস্ট ২০১৮, ১৩:৩৩আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১৩:৩৬

বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের পরিচয়পত্রে তাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে আখ্যায়িত না করার সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের শরণার্থী বিষয়ক পরিচালক বিল ফ্রেলিক। বুধবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক কলামে তিনি বলেন, শরণার্থীদের পরিচয় কার্ডে কয়েকটি শব্দ পরিবর্তন হয়তো খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে হবে না। কিন্তু নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা সাত লাখ রোহিঙ্গার জন্য এটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

‘কার্ডে লেখা শব্দের চেয়ে রোহিঙ্গাদের পরিচয় আরও বেশি কিছু’

গত বছরের ২৫ আগস্ট নিরাপত্তা চৌকিতে আরসার হামলাকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের কারণ বলা হলেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে এবং তাদের ফেরার সব পথ বন্ধ করতে আরসার হামলার আগে থেকেই পরিকল্পিত সেনা-অভিযান শুরু হয়েছিল। চলমান জাতিগত নিধনে হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। এক বছরেও মিয়ানমারের এই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। এখনও আশার আলো দেখার মতো, নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থায় নেই বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লাখ লাখ মানুষ। 

সম্প্রতি প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার এক পর্যায়ে রোহিঙ্গাদের দেওয়া কার্ডে তথ্য পরিবর্তনে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। পরিচয়পত্রে এখন ‘মিয়ানমার নাগরিক’ এর জায়গায় লেখা হবে ‘রাখাইনের বাস্তুচ্যুত’।

বিল ফ্রেলিক বলেন, এই পরিবর্তন থেকেই বোঝা যায় মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে চায় না। এমনকি তাদের নিরাপত্তাবাহিনীর নিপীড়নেই যে রোহিঙ্গারা বাস্তুচ্যুত হয়েছে সেটাও স্বীকার করে না। একইসঙ্গে বাংলাদেশ যে শরণার্থীদের অধিকার বঞ্চিত করেও প্রত্যাবাসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাও স্পষ্ট।

এইচআরডব্লিউ’র শরণার্থী বিষয়ক প্রধান আরও বলেন, রোহিঙ্গারা সরকারিভাবে নাগরিকত্বহীন, তবে তারা যুগ যুগ ধরে মিয়ানমারে বসবাস করে আসছেন। বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে অনেক মানুষের মাঝে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থাকলেও কোনও অভিযোগ নেই রোহিঙ্গাদের। তারা বলেন, ‘বাংলাদেশ তো আমার দেশ না।’ আমি কয়েকবার এই কথা শুনেছি। আমার তৈরি প্রতিবেদনের শিরোনাম দেই এই লাইনটি। রোহিঙ্গারা জানায়, মিয়ানমার তাদের দেশ, জন্মভূমি। সেখানেই ফিরে যেতে চায় তারা।

তবে মিয়ানমারে নিঃশর্তভাবে ফিরে যেতে চান না রোহিঙ্গারা। এক তরুণ শরণার্থী জানায়, যদি মিযানমার আমাদের নাগরিকত্ব দেয় ও রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচয় দেয় তাহলেই শুধু আমরা ফিরে যাব। আমরা আমাদের জমি ও সম্পদও ফিরে চাই। অন্যান্য ধর্মের মতো আমাদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে সেটা চাই। আমি ফিরে যেতে চাই। কিন্তু আমার বাড়ি, সম্পদ, নাগরিকত্বের অধিকার চাই আমি।  আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও উচিত আমাদের জন্মভূমির শান্তি নিশ্চিত করা।

বিল বলেন, এই শর্তগুলো অযাচিত নয়। কিন্তু এগুলো অর্জন করা সহজ না। বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর উচিত মিয়ানমারকে চাপ দেওয়া। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা। তাদের পরিচয়পত্রে মিয়ানমার নাগরিক লেখার পাশাপাশি শরণার্থীও লিখতে হবে। শরণার্থীদের সব অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মিয়ানমার নাগরিক ও শরণার্থী হিসেবে তাদের সম্মান করতে হবে। প্রত্যাবাসন হতে হবে তাদের স্বেচ্ছায় এবং সেজন্য নিরাপদ পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।

 

/এমএইচ/এএ/
সম্পর্কিত
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
সর্বশেষ খবর
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম