দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে আটক বিলাসবহুল ইয়ট নিলামে তোলার বিষয়ে মালেশীয় সরকারের আবেদনে সাড়া দিয়েছে সে দেশের আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, ইয়টটি বিক্রি করে দিয়ে অর্থ গচ্ছিত রাখতে যাতে ইয়টটির প্রকৃত মালিককে খুঁজে পেলে অর্থ দিয়ে দেওয়া যায়। শুক্রবার যে ইয়টের নিলামের বিষয়ে আদলাত রায় দিয়েছে, তার মালিক দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়ান এমডিবির কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ইয়টটি নিলামে তোলার রায়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এর জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদকে দায়ী করেছেন। তার ভাষ্য, মাহাথির মোহাম্মদ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কাজ করছেন, আইনের শাসনের প্রতি তার কোনও শ্রদ্ধা নেই।
দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আটক বিলাসবহুল ইয়টটি ছিল ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে। সেখানে সেটি জব্দ করা হয়। পরে ইন্দোনেশিয়ার সরকার তা মালয়েশিয়ার কাছে হস্তান্তর করে। তিনশ ফুট দীর্ঘ ইয়টটিতে মার্বেলে বিছানো। এতে রয়েছে স্পা, সুইমিং পুল, মুভি থিয়েটার, লিফট ও হেলিপ্যাডের মতো সুবিধা। মালয়েশিয়ার সরকার পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, ‘বিলাসবহুল ইয়টটির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অত্যন্ত বেশি। আর যতদিন এটি পড়ে থাকবে ততদিন ধরে তার মূল্য কমতে থাকবে। সুতরাং যত দ্রুত সম্ভব আমরা এটি বিক্রি করে দিতে চাই।’
কেম্যান দীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ইয়টটির মালিক লো তায়েক ঝোর বর্তমান অবস্থান জানা না থাকলেও ওয়ান এমডিবির দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শুক্রবার অভিযোগ এনেছে মালয়েশিয়ার পুলিশ। সংশ্লিষ্ট মালয়েশীয় ব্যবসায়ী নাজিব রাজাকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। নাজিব নিজেও এখন ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের হয়েছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে বিলাসবহুল নৌযানটির মালিক ইকুয়ানিমিটি লিমিটেড। সংস্থাটির পক্ষ থেকে দাবি করে হয়েছে, তারা কোনও ধরণের ‘বৈধ’ আইনি নোটিশ পায়নি। তাদের ভাষ্য, মালয়েশিয়া সরকার যদি এখনই বিলাসবহুল ইয়টটি বিক্রির চেষ্টা করে তাহলে তা হবে আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন এবং পরবর্তীতে যিনি সেটি কিনবেন তার মালিকানাও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ী তার আইনজীবীর মাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছেন, ‘এভাবে ইয়টটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় প্রধানমন্ত্রীর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কোনও ইচ্ছাই নেই। বরং বেআইনি প্রক্রিয়া কার্যকর করার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করছেন তিনি। আইনের শাসনের প্রতি তার শ্রদ্ধা নেই।
অন্তত পঁচিশ কোটি ডলার মূল্যের ইয়টটি বিক্রি করে দেওয়ার সরকারি আবেদনের ওপর মালয়েশিয়ার আদালত দেড় ঘণ্টা শুনানি করে। কিন্তু সেখানে ইয়টের মালিক অভিযুক্ত ব্যবসায়ী বা ইয়ট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। এই অনুপস্থিতির বিষয়ে সরকার পক্ষের আইনজীবী মন্তব্য করেছেন, ‘এতে মামলার কোনো ক্ষতি হবে না। আগ্রহ থাকলে তারা আদালতে হাজির হতেন। আমাদের সঙ্গে তো কেউ যোগাযোগ করেনি। তাছাড়া কোন আইনজীবীও তার পক্ষ থেকে আদালতে দাঁড়াননি।








