বিশ্বের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিষিদ্ধ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে আরেকটি সামাজিক মাধ্যমে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের নামে একইরকমের একটি অ্যাকাউন্টের উপস্থিতি দেখা গেছে। নতুন এ পেজটি খোলা হয়েছে রাশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ভিকে-তে। বুধবার (২৯ আগস্ট) পর্যন্ত দেখা গেছে, নতুন এ পেজটির অনুসারীর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতির এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে। তবে ভিকে’র পেজটি আসলেই মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইরাবতি।
গত ২৭ আগস্ট মিয়ানমার সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাংকে নিষিদ্ধ করে ফেসবুক। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে রাখাইনে রোহিঙ্গা সংকটের জন্য তাকে দায়ী করার পর এমন ব্যবস্থা নেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি। সেনাপ্রধান ছাড়া আরও ২০ জন বার্মিজ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করে তারা। তবে ফেসবুকে মিন অং হ্লাং-এর পেজটির অস্তিত্ব না থাকলেও একইরকমের একটি পেজ ভিকে-তে দেখা যাচ্ছে।
রাশিয়াভিত্তিক জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভিকে’র ব্যবহারকারীরা বার্মিজ, রুশ, ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় পোস্ট দিতে পারে। এর ব্যবহার পদ্ধতি ফেসবুকের মতোই। ভিকে’র মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তথ্য বিনিময়, ছবি পোস্ট, পেজ তৈরি করতে পারে এবং দ্রুত ও বিনামূল্যে মেসেজ আদান-প্রদান করতে পারে। এ মাধ্যমটিতে নিবন্ধিত হতে ব্যবহারকারীদেরকে ইমেইল অ্যাড্রেস সরবরাহ করতে হয়। ভিকে’র ওয়েবপেজের তথ্য অনুযায়ী, ৯ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে।
ফেসবুকে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের পেজটি ছিল ‘সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাং’ নামে। ভিকে’র অ্যাকাউন্টটিতেও একই নাম ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। বুধবার বন্যা পরিস্থিতি দেখতে তার বাগো অঞ্চলের সোয়ার এলাকা পরিদর্শনের ছবি সেখানে আছে। এছাড়া রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক সামরিক প্রযুক্তি ফোরাম ও জাতীয় নিরাপত্তা সপ্তাহে যোগ দিতে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক রাশিয়া সফর সংক্রান্ত পোস্টও আছে সেখানে।
পেজে পোস্ট করা কিছু ছবি বিশ্লেষণ করে ইরাবতি জানায়, রাশিয়ায় স্নাতকোত্তর ও ডক্টরাল ডিগ্রির জন্য পড়াশোনারত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের সাক্ষাতের ছবি আছে সেখানে। উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণের জন্য ২০০১ সাল থেকে রাশিয়ায় সেনা কর্মকর্তাদের পাঠাচ্ছে মিয়ানমার। ভিকে-তে মিন অং হ্লাং-এর নামে খোলা পেজটিতে রুশ ও বার্মিজ এ দুই ভাষাতেই পোস্ট দেওয়া হয়েছে।
ইরাবতির দাবি, মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টের ধরন ও স্টাইলের সঙ্গে ভিকে’র পেজে দেওয়া পোস্টের মিল রয়েছে। তবে পেজটি সত্যতা নিশ্চিত হতে বুধবার দুপুর পর্যন্ত মিয়ানমারের সেনা মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে জানিয়েছে ইরাবতি।
গত বছরের ২৫ আগস্ট নিরাপত্তা চৌকিতে আরসার হামলাকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের কারণ বলা হলেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে এবং তাদের ফেরার সব পথ বন্ধ করতে আরসার হামলার আগে থেকেই পরিকল্পিত সেনা-অভিযান শুরু হয়েছিল। চলমান জাতিগত নিধনে হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ।
সর্বশেষ সোমবার (২৭ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা গণহত্যায় সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতার কথা তুলে ধরে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনীর সঙ্গে বেসামরিক কর্তৃপক্ষও এই গণহত্যায় ইন্ধন জুগিয়েছে। রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিও তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সহিংসতা থামাতে ব্যর্থ হয়েছেন। জাতিসংঘ জানায়, রাখাইনে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ নিয়ে মিয়ানমার সরকারের প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকারের মাত্রায় তারা অবাক হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা উচিত বলে মন্তব্য করা হয় প্রতিবেদনটিতে। সেখানে ছয়জন সেনা কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়। যার মধ্যে ছিলেন সেনাপ্রধানও।








