ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্প ও সুনামিতে বিধ্বস্ত পালু শহরের মুতিয়ারা সিস আল-জুফরি বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি পাচ্ছে না বিদেশি ত্রাণবাহী বিমান। কর্মকর্তারা জানান, ত্রাণ নিয়ে বিদেশি বিমানগুলো অবতরণের অনুমতি চাইতে তা দেওয়া হচ্ছে না। ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম জাকার্তা পোস্ট এখবর জানিয়েছে।
দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিমানবন্দর পরিচালক পোলানা প্রমেস্টি সোমবার বলেন, অনেকগুলো বিদেশি এয়ারলাইন্স তাদের উড়োজাহাজ অবতরণের অনুমতি চেয়েছে। কিন্তু আমরা তাদের অনুমতি দেইনি। কারণ বিমানবন্দরটি এখনও স্পর্শকাতর এলাকা। তিনি ফ্রান্স এয়ারলাইনকে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে উদাহরণ দেন।
ইন্দোনেশীয় এই কর্মকর্তা দাবি করেন, প্রয়োজনীয় ত্রাণ কাজের জন্য সবধরনের পরিবহনের কাজ করার সামর্থ্য রয়েছে ইন্দোনেশিয়ান এয়ারলাইন্সে। শুক্রবার ভূমিকম্পের পর অন্তত চারটি স্থানীয় এয়ারলাইন্স কোম্পানি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর হারকিউলিস হেলিকপ্টারও কাজ করছে।
পোলানা বলেন, এ পর্যন্ত ছয়টি হারকিউলিস হেলিকপ্টার রিটার্ন ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। যদিও স্থানীয় এয়ারলাইন্সের কর্মকাণ্ড স্বাভাবিকের চেয়ে কম। কারণ ত্রাণ সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং বিদেশি ত্রাণের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই অব্যাহত থাকবে।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র সুতোপো পুরয়ো জানান, সরকার অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মরক্কো, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, চীন, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, ফিলিপাইন ও সুইজারল্যান্ডকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া ১ মিলিয়ন ডলার, ইইউ ১.৬ মিলিয়ন এবং চীন ২ লাখ।
সুতোপো জানান, বিদেশি ত্রাণ গ্রহণের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র প্রেসিডেন্টের রয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার দেশটির দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবারের ভূমিকম্প ও সুনামিতে নিহতের সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়েছে। শুক্রবার ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সেখানে কম্পনের পর আছড়ে পড়ে প্রলয়ঙ্করী সুনামির ঢেউ। সুউচ্চ ঢেউ লণ্ডভণ্ড করে দেয় উপকূলীয় এলাকা। শুক্রবারের কম্পন ও সুনামির পর শনিবার উপকূলে সন্ধান মিলেছে বহু মরদেহের। কয়েক দফা আফটার শকের কারণে ভবনের ধ্বংসাবশেষ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতির অপেক্ষায় রয়েছেন। আটকে পড়াদের আর্তনাদে সাড়া দিয়ে চলছে খাবার আর পানি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা। এরই মধ্যে নিহতের সংখ্যা ১২৩৪ বলে জানালেন কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে পালু শহরের বেশিরভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।








