ইন্দোনেশিয়ায় লায়ন এয়ারের যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, আগের একটি ফ্লাইটের সময়ই তাতে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। ওই ফ্লাইটের বৈমানিক উড্ডয়নের পরপরই যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানিয়ে কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে ত্রুটিটি নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় বিমানটি যাত্রা অব্যাহত রাখে এবং সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওই ফ্লাইটের কয়েক ঘণ্টা পরে শুরু হওয়া ফ্লাইটেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
সোমবার (২৯ অক্টোবর) ইন্দোনেশিয়ায় ১৮৯ জন আরোহী নিয়ে লায়ন এয়ারের বিমানটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়। জেটি-৬১০ ফ্লাইটটি জাকার্তা বিমানবন্দর থেকে ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ শহর পাঙকাল পিনাঙয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মাথায় নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ওই এলাকার আশেপাশে যারা নৌকায় ছিলেন তারা আকাশ থেকে বিমানটিকে সাগরে পড়তে দেখেছেন। ঘটনাস্থল থেকে যাত্রীদের বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সমুদ্রের ২০ থেকে ৩০ মিটার গভীরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।
লায়ন এয়ার ফ্লাইটের ওই বিমানটি প্রায় নতুন ছিলো। ২০১৭ সাল থেকে বোয়িং কোম্পানির ৭৩৭ ম্যাক্স এইট বিমানটির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়েছে। গত জুলাই মাসে ইন্দোনেশিয়ায় প্রথম এ ধরণের বিমান চালু করার কথা জানায় লায়ন এয়ার। তারা একই মডেলের আরও ২১৮টি বিমানের অর্ডার দিয়েছিল। আর সোমবার বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি গত ১৫ আগস্ট প্রথম যাত্রা শুরু করে।
বালি-নুসা টেঙ্গারা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান হেরসন জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত হওয়ার আগের ফ্লাইটে সংশ্লিষ্ট বৈমানিক জানিয়েছিলেন, বিমান স্বাভাবিক হয়েছে। ফেরত যাওয়ার আর দরকার হবে না। তার ভাষ্য, ‘ডেনপাসার থেকে জাকার্তাতে ফ্লাইট নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ক্যাপ্টেন নিজে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।’
ঘটনার বিষয়ে আরেকটি বিমানের বৈমানিক জানিয়েছেন, তার বিমানটিকে ওই সময় বিমানবন্দরে নামতে নিষেধ করা হয়েছিল এবং যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়া বিমানটির সঙ্গে কী কথোপকথন হচ্ছে তা শুনতে বলা হয়েছিল। তার ভাষ্য, ‘যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার প্রসঙ্গ সামনে আসায় আমাদেরকে অবতরণ না করে বিমানবন্দরের চারপাশে উড়তে বলা হয়েছিল, পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত। লায়নের বিমানটি উড্ডয়নের পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আবার বালিতে ফিরে যাওয়ার জন্য কন্ট্রোল টাওয়ারে বার্তা পাঠিয়েছিল। কিন্তু তারপর বৈমানিক জানিয়েছিলেন, সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে। তিনি জাকার্তা যাচ্ছেন।’
বিধ্বস্ত বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ওই ফ্লাইট শেষে জাকার্তায় অবতরণ করে রাত ১১টার দিকে। আর সকাল ৬টার পরে উড্ডয়নন করে তার শেষ ফ্লাইটে। এ ক্ষেত্রেও উড্ডয়নের পরপর বৈমানিক বিমানবন্দরে ফেরার প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ফেরা আর সম্ভব হয়নি।








