শুক্রবার (২ নভেম্বর) শ্রীলঙ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্য দেশটির স্পিকারের কাছে সংসদ অধিবেশন শুরুর দাবি জানিয়েছেন। স্পিকার বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে মৌখিকভাবে আশ্বাস পেয়েছেন আগামী ৭ নভেম্বর অধিবেশন শুরুর বিষয়ে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবারেই প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার নিয়োগ করা প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসের দুই সহযোগী জানিয়েছিলেন, ১৬ নভেম্বরের আগে অধিবেশন বসবে না এবং ১৬ নভেম্বর অধিবেশন শুরু হলেও কে প্রধানমন্ত্রী হবেন সে বিষয়ে ‘কনফিডেন্স ভোট’ আয়োজনের কোনও পরিকল্পনাও নেই। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা লিখেছে, ২২৫ সদস্যের সংসদের ১১৮ জন সংসদ সদস্য অধিবেশন শুরুর দাবি জানানোয় সংশ্লিষ্টরা বিক্রমাসিংহের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টিকে যাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে নিজেও সংসদ অধিবেশন দাবি করছেন যাতে ‘কনফিডেন্স ভোটের’ মাধ্যমে তার প্রতি থাকা সমর্থনের বিষয়টি প্রমাণ করতে পারেন তিনি।
রাজাপাকসে পর পর দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৫ সালে সিরিসেনা প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন। তিনি পরাজিত করেন তার নিজ দলের নেতা রাজাপাকসেকে। ২০১৫ সালের ওই নির্বাচনের পর গঠিত হয় জোট সরকার, সিরিসেনা যার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন বিক্রমাসিংহেকে। কিন্তু তারপর থেকে তাদের দুইজনের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠতে থাকে, যার প্রেক্ষিতে সিরিসেনা গত ২৬ অক্টোবর তাকে বরখাস্ত করেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।
বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করার ঘটনায় সিরিসেনার সমালোচকরা বলেছেন, ১৯৩১ সালে শ্রীলংকায় গণতান্ত্রিক রাজনীতির যাত্রা শুরুর পর থেকে আর কখনও ক্ষমতার এমন অবৈধ হাত বদলের ঘটনা ঘটেনি। ২০১৫ সালে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী সিরিসেনার প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার এখতিয়ারই নেই। তারপরও সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করেছিলেন, সিরিসেনা তার সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন এবং রাজাপাকসেকে ক্ষমতা সংহত করার জন্য সময় দেবেন। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, সোমবারেই বসবে সংসদ অধিবেশন।
গত বৃহস্পতিবার (০১ নভেম্বর) নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে শিক্ষাবিদদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় জানিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা শীঘ্রই সংসদ অধিবেশন শুরুর আদেশ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। আগামী সোমবার সংসদ অধিবেশন শুরু হবে এবং সেখানেই সংসদ সদস্যরা ভোটাভুটির মাধ্যমে জানিয়ে দিতে পারবেন সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন কার প্রতি। নিজ কার্যালয়ে শিক্ষাবিদদের সঙ্গে আলোচনায় রাজাপাকসের করা মন্তব্যের খবর প্রকাশ হতেই সমর্থকদের সঙ্গে বিক্রমাসিংহে নিজেও আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি এক টুইটার বার্তায় লেখেন, ‘গণমানুষের রায় মানতে হয়েছে। গণতন্ত্র এগিয়ে যাবে।’
কিন্তু বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও বার্তা আসেনি। বিকালের দিকে রাজাপাকসের দুই অনুসারী পুরোই উল্টো বক্তব্য দেন। সাংবাদিকদের তারা জানান, সিরিসেনা ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত সংসদ স্থগিতের সিদ্ধান্তেই স্থির আছেন। সেখানেই শেষ নয়। তারপর তারা বলেছেন, সংসদ অধিবেশন যদি শুরু হলেও সংসদে ‘কনফিডেন্স ভোট’ আয়োজনের কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি সিরিসেনা ও রাজাপাকসের দলের সমন্বয়ে গঠিত রাজনৈতিক জোট ।
শুক্রবার ১১৮ জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর সংবলিত আর্জি উপস্থাপন করা হয় স্পিকারের কাছে। সংসদ সদস্যদের দাবি, স্পিকার কারু জয়সুরিয়া যেন অবিলম্বে সংসদ অধিবেশন শুরু করেন। ‘কনফিডেন্স ভোটে’ জিততে বিক্রমাসিংহের দরকার ১১৩ ভোট। তার মানে তার চেয়েও পাঁচ জন বেশি সংসদ অধিবেশন চান যা বরখাস্ত প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহেরও চাওয়া।








