ধর্ম অবমাননার অভিযোগ থেকে আসিয়া বিবিকে বেকসুর খালাসের ঘটনায় তেহরিক-ই-লাব্বায়েক (টিএলপি) বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকারের সমঝোতার একদিন পরে পাঁচ সহস্রাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। সরকারি সম্পদে ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে টিএলপি নেতাদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এখবর জানিয়েছে।
পাকিস্তানে প্রথম নারী হিসেবে ২০১০ সালে ধর্ম অবমাননা সংক্রান্ত আইনে আসিয়া বিবিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়। গত ৩১ অক্টোবর আসিয়া বিবির মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। রায়ের পরপরই বিক্ষোভ শুরু করে টিএলপি। তারা ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোরের গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো রাস্তা অবরোধ করে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সাকিব নিসার ও রায় বাতিল করা বেঞ্চের অপর দুই বিচারককে হত্যার আহ্বান জানিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
টিএলপি নেতা মুহাম্মদ আফজাল কাদরি পাকিস্তান সরকার ও সেনাপ্রধান জেনারেল কামার বাজওয়াকে উৎখাতেরও আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি। পরিস্থিতি মোকাবেলায় শুক্রবার মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধের নির্দেশ দেয় সরকার। ইসলামাবাদে টেলিফোন নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেশটির সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখে। শনিবার দুই পক্ষের সমঝোতার কথা জানানো হয়।
চীন সফরে থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পদে ভাঙচুর ও ক্ষতির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রাদেশিক সরকারের সহযোগিতায় এসব ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেন তিনি।
শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেহরিয়ার আফ্রিদি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন। এরপরই তিনি গ্রেফতার অভিযানের নির্দেশ দেন। তিনি জানান, বিক্ষোভের নামে দেশজুড়ে যারা অরাজকতা চালিয়েছে তাদের গ্রেফতার করা হবে। যেসব মওলানাদের যারা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত না বলে দাবি করেছেন তাদের আমি শ্রদ্ধা করি। তারা বলেছেন কিছু দুর্বৃত্ত এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সামাজিক মাধ্যমে যারা উস্কানিমূলক কথাবার্তা ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ সম্পর্কে পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন অথরিটি (পিটিএ) ও ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির সাইবার ক্রাইম শাখাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লাহোরে পুলিশ টিএলপি নেতা আল্লামা খাদিম হোসাইন রিজবি ও পীর আফজল কাদরিসহ ১৫০০ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা দায়ের করেছে। সড়ক অবরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
ফয়সালাবাদে ৩ হাজার বিক্ষোভকারীকে আসামি করে ২৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ২১৮ জনকে। চিনিওটে ৩ টি মামলা ও ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সারগোদাতে ৩০০ জনের বিরুদ্ধে ২টি মামলা, জাং-এ ১৫০ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা ও ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওকারাতে ২০০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। পরে ২০ জন জামিন পেলে মুক্তি দেওয়া হয়। রাওয়ালপিণ্ডিতে কয়েকশ টিএলপিকর্মীর বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার ১৬ জন মুক্তি পেয়েছেন।
রাজধানী ইসলামাবাদে শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদের মধ্যে একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের ২০ জন কর্মী রয়েছেন।








