আগামী বছরের এপ্রিলে নির্ধারিত আফগান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই তালেবানের সঙ্গে একটি রোডম্যাপ চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করছেন আফগানিস্তান বিষয়ক মার্কিন দূত জালমাই খালিলজাদ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানীতে আফগান সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে দুই দিনের বৈঠকের পর এই আশাবাদ জানান তিনি। বুধবার আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান শান্তি আলোচনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য দৃশ্যমান ইতিবাচক ফলা এসেছে। শুরুর তারিখ জানাতে না পারলেও, বার্তা সংস্থাটি আফগান শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আবুধাবিতে নতুন ধাপের আলোচনা শুরুর খবর নিশ্চিত করেছে।
১৭ বছর ধরে চলা আফগান যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানীতে বৈঠকে বসে যুক্তরাষ্ট্র। ৯/১১ হামলার পর আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে উৎখাত করতে শুরু করা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তৎকালীন প্রসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন ৯/১১ হামলায় অভিযুক্ত আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তোলে আফগান গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে।
আবুধাবিতে আফগান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে নিশ্চিত করেনি তালেবান। গোষ্ঠীটি বলেছে, মার্কিন দূতের সাথে প্রাথমিক আলোচনা করেছে তারা। আলোচনার পর তালেবান মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এটিকেই সব সমস্যার মূল হিসেবে উল্লেখ করে তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আফগানিস্তানের দখলদারিত্বই শান্তির পথে বড় বাধা। বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচার বোমাবর্ষণ অবশ্যই দ্রুত বন্ধ করতে হবে।
আফগান বিষয়ক মার্কিন দূত জালমাই খালিলজাদ (Zalmay Khalilzad) বলেছেন, ‘সংঘাত নিরসনে আফগানিস্তানের পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ শুরুর বিষয়ে’ বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে।
খালিলজাদের টুইটার বার্তা অনুযায়ী, কাবুলে আফগান নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার আগে গত বুধবার তিনি পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাদের অবহিত করেছেন। আগামী এপ্রিলে আফগানিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই তিনি একটি ‘রোডম্যাপ’ চুক্তির বাস্তবায়ন দেখতে চান।
আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা ছাড়াও আমিরাতের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। আফগান সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল সরকার আখ্যা দিয়ে তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে তালেবান। আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ এখনও তালেবানের হাতে। মার্কিন আগ্রাসনের পর যেকোনও সময়ের চেয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি এখন সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হচ্ছে, হাফিজ ইয়াহিয়া, সাদুল্লাহ হামাস এবং ড. ফাকির, হাক্কানি নেটওয়ার্কের এই তিনজন প্রতিনিধি আলোচনার সময় উপস্থিত ছিলেন। তালেবান যোদ্ধাদের একটি সূত্রের কাছ থেকে বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে। আফগান তালেবানের অংশ হক্কানি নেটওয়ার্কের নিজেদের আলাদা সামরিক কমিটি আছে, যার নেতা সিরাজুদ্দিন হাক্কানি। তিনি তালেবানের সহ-প্রধান। যুদ্ধের ময়দানে হাক্কানি গ্রুপের প্রবল উপস্থিতি। তাদের সমর্থন ছাড়া কোনও চুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তাই এই বৈঠকে এর নেতাদের উপস্থিত থাকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








