মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টে সামরিক সরকার প্রণীত সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব নিয়ে মঙ্গলবার বিতর্ক অনুষ্ঠিত হতে হবে। প্রস্তাবটিতে আলোচনায় অংশ গ্রহণ করবে না সেনাবাহিনী নিযুক্ত আইনপ্রণেতারা। গত সপ্তাহে প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য পার্লামেন্টে ভোটাভুটিও বর্জন করেছিলেন সেনা এমপিরা। মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতী এখবর জানিয়েছে।
দেশটির পার্লামেন্টের তথ্যের বরাত দিয়ে ইরাবতী জানায়, অং সান সু চি’র নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) দল, সেনা সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ও কয়েকটি জাতিগত দল বিতর্কে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছে। মোট ২৬ জন আলোচনায় অংশ নেবেন। বিতর্কে অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় কোনও সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিত্বকারী এমপির নাম নেই।
২৯ জানুয়ারি এনএলডির আইনপ্রণেতা প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য পার্লামেন্টে উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবটিতে তিনি যত দ্রুত সম্ভব সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি যৌথ কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য গৃহীত হবে কিনা- এই বিষয়ে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে সেনাপ্রধান নিয়োগকৃত ও অনির্বাচিত ২৫ শতাংশ সেনা এমপি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। সেনাবাহিনী ভোটাভুটি বর্জন করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে আলোচনার জন্য গৃহীত হয়।
৩১ জানুয়ারি দেশটির সেনা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাং জানান, তিনি আগেই জানিয়েছেন যে সংবিধান সংশোধনের নীতির বিরোধী তিনি নন। কিন্তু তার মনোনীত সেনা এমপিরা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন।
মিয়ানমারের সংবিধান সংশোধন করতে হলে ৭৫ শতাংশ এমপির সমর্থন প্রয়োজন হয়। ফলে ২৫ শতাংশ এমপি সেনাপ্রধান মনোনীত হওয়ার ফলে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে দেশটির সেনাবাহিনীর কার্যত ভেটো ক্ষমতা রয়েছে।








