সেনাবাহিনী নয়, সু চির কারণেই বন্দি রয়টার্স সাংবাদিকেরা

বিদেশ ডেস্ক
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:১২আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:১৪

রোহিঙ্গা গণহত্যার খবর সংগ্রহ ও প্রচারের কারণে মিয়ানমারে গ্রেফতার হওয়া রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের মুক্তি না দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির প্রভাবশালী সেনাবাহিনী নয়, এজন্য দায়ী গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে খ্যাতি অর্জনকারী ও শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চি। রয়টার্স সাংবাদিকদের মুক্তির জন্য সু চি’র সঙ্গে কথা বলা বেশ কয়েকজন কূটনীতিক ও কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এই খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

সেনাবাহিনী নয়, সু চির কারণেই বন্দি রয়টার্স সাংবাদিকেরা

২০১৭ সালের ডিসেম্বরের এক সন্ধ্যায় পুলিশ সদস্যদের আমন্ত্রণে রেস্টুরেন্টে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন মিয়ানমারে কর্মরত রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন এবং কিয়াও সোয়ে ও। পরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দাফতরিক গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার দেখায়। রাখাইনের ইন দিন গ্রামে সেনা অভিযানের সময় রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যার ওপর অনুসন্ধান চালাতে গিয়েই মামলার কবলে পড়েন তারা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে সাত বছর করে কারাদণ্ড ঘোষণা করে ইয়াঙ্গুনের একটি জেলা আদালত। ওই বছরের নভেম্বরের শুরুতে ইয়াঙ্গুনের হাইকোর্টে দুই সাংবাদিকের পক্ষে আপিল করেন তাদের আইনজীবীরা। গত ১১ জানুয়ারি আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের সাজা বহাল রাখে হাইকোর্ট। ১ ফেব্রুয়ারি রায়ের বিরুদ্ধে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন তারা। আইনি ব্যবস্থার আওতায় সাজা থেকে মুক্তি পেতে দুই রয়টার্স সাংবাদিকের জন্য এ আপিলকেই শেষ সুযোগ বলে মনে করা হচ্ছে। 

ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকার কারণে সু চি চাইলে রয়টার্স সাংবাদিকদের মুক্তি দিতে পারতেন। কিন্তু এখন তা অসম্ভব বলে মনে করছেন এই বিষয়ে সু চি’র সঙ্গে একান্ত আলোচনা করা বেশ কয়েজন কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, এই দুই সাংবাদিককে বন্দি রাখার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী সেনাবাহিনী নয়, সু চিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা মনে করি না সু চি তার সিদ্ধান্ত বদলাবেন। তাকে মনে হয়েছে রুষ্ট। এই নারীর অসামান্য মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে খ্যাতি রয়েছে।

জ্যেষ্ঠ এক পশ্চিমা কূটনীতিক জানান, গতবছর রয়টার্স সাংবাদিকের বিষয়টি মিয়নামার সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের সঙ্গে এক বৈঠকে ব্যক্তিগতভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কূটনীতিক জানান, সাংবাদিক দ্বয়কে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের বাধা নেই। বেসামরিক সরকারের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেব।

একইভাবে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যেও অনেকে মনে করেন রয়টার্স সাংবাদিকদের ঘটনাটি মিয়ানমারের জন্য বিব্রতকর। তাদের অনেকেই ওয়া লোন ও কিয়াউ সোয়ের প্রতি সহানুভূতিশীল। এদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট উইন মুইন্ট। মার্চ মাসে তিনি দায়িত্ব নেন এবং তাকে বেছে নিয়েছেন সু চি নিজেই।

প্রেসিডেন্ট ও সু চির ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এপ্রিলে মিয়ানমারের নববর্ষে জল উৎসবের সময় কয়েক হাজার রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই তালিকায় প্রেসিডেন্ট  রয়টার্সের দুই সাংবাদিককেও মুক্তি দিয়েছিলেন। তাদেরকে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে বাতিল করে দেন সু চি।

উচ্চ পদস্থ পশ্চিমা আরেক কূটনীতিক বলেন, মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারের অনেকেই মনে করেন রয়টার্স সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়া উচিত। অনেকেই আছেন। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সু চিই চান না। এটা নিজের পায়ে নিজেই কুড়োল মারা।

এই ঘটনায় সু চির অবস্থান নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। ব্যক্তিগত আলাপে সু চি জানিয়েছেন, সরকারের হস্তক্ষেপের আগে আদালতের যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ হোক। সমালোচকরা এক্ষেত্রে বিচারের পক্ষপাতিত্ব তুলে ধরছেন।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় গঠিত সু চি’র গঠিত কমিশনের এক সাবেক সদস্য ও থাই কূটনীতিক কবসাক চুটিকুল জানান, সিদ্ধান্তটা শেষ পর্যন্ত সু চিরই। কেউই তার বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে না। কোন বিষয়টি তাকে প্রভাবিত করছে তা অনুধাবন করা কঠিন।

অনেকেই মনে করেন, কট্টপন্থীরা বিশেষ করে সাবেক সামরিক জান্তা সংশ্লিষ্টরা সু চিকে এই অবস্থান নিতে প্রভাবিত করেছে। এদের মধ্যে তার মুখপাত্র জাউ হতায় রয়েছেন। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক একজন মেজর এবং সেনা সমর্থিত প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ছিলেন।

ব্যক্তিগত আলাপে সু চি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতি ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে পশ্চিমারা এসব প্রতিবেদনের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারবিরোধী হয়ে ওঠেছে। সু চির ঘনিষ্ঠ আরেকজন জানান, দলের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের বিদেশি সংবাদমাধ্যমে কথা বলায় কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।

ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে আরও বলা হয়েছে, রয়টার্স সাংবাদিকদের মুক্তি না দিলেও মিয়ানমারের ইলেভেন মিডিয়া গ্রুপের তিন সাংবাদিককে মুক্তি দিতে প্রেসিডেন্টকে নির্দেশ দিয়েছেন সু চি। নভেম্বরে ওই সাংবাদিকের অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়।

সু চির সঙ্গে আলোচনা করা আরেক ব্যক্তি বলেন, সু চি মনে করেন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মতো পক্ষপাতমূলক নয়।

 

/এএ/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম