মিয়ানমারে স্কুলগামী শিশুদের অবলম্বন পুরনো বাইসাইকেল

বিদেশ ডেস্ক
২৩ জুন ২০১৯, ১৮:৪০আপডেট : ২৩ জুন ২০১৯, ১৮:৪২

বাতাসে ঘণ্টার শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই মিয়ানমারের শিশুরা বাড়ি থেকে স্কুলে যেতে ব্যবহৃত বাইসাইকেলে চড়া শুরু করে। এসব বাইসাইকেল এসেছে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে। অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করা দেশটির শিশুদের শিক্ষা সহজ করতে এসব বাইসাইকেল বিলি করা হয়েছে।

মিয়ানমারে স্কুলগামী শিশুদের অবলম্বন পুরনো বাইসাইকেল

থায়ে সু ওয়াইকে এখন স্কুলে যাওয়ার জন্য দুই ঘণ্টা ধরে ১০ কিলোমিটার হাঁটতে হয় না। ইয়াঙ্গুনের কাছাকাছি গ্রামের একটি স্কুলে সে আনন্দের সঙ্গে নতুন সাইকেলের চাকা ঘুরাচ্ছিল। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে সে জানায়, এখন আমি পড়াশোনা ও বন্ধুদের সঙ্গে খেলার জন্য অতিরিক্ত সময় পাই।

মান্দালায়ভিত্তিক উদ্যোক্তা মাইক থান তুন উইনের মস্তিষ্কপ্রসূত ‘লেসওয়াক’ প্রকল্পের আওতায় যে ২০০ শিক্ষার্থী বাইসাইকেল পেয়েছে ১১ বছরের থায়ে সু ওয়াই তাদের একজন।

মাইক থান সিঙ্গাপুরে বড় হয়েছেন এবং সেখানেই পড়াশোনা করেছেন। আট বছর আগে বাণিজ্যে ডিগ্রি অর্জনের পর মিয়ানমার ফিরে আসেন। ৩৩ বছরের এই উদ্যোক্তা বলেন, আমি দেখেছি শিশুরা বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার জন্য অনেকটা পথ হাঁটে। তাদের জন্য আমার খুব খারাপ লাগত।

ইউনিসেফের তথ্য অনুসারে, মিয়ানমারের ৫৫ শতাংশ শিশু দারিদ্র্যে বাস করে। আর ১৭ বছর বয়সীদের অর্ধেক খুব সামান্য বা কোনও শিক্ষা ছাড়াই প্রাপ্ত বয়স্ক হয়। এই অবস্থায় মাইক যখন জানতে পারেন ওবাইক, ওফো ও মোবাইকের মতো বাইক-শেয়ারিং কোম্পানি সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে এবং হাজার হাজার বাইসাইকেল ফেলে দেওয়া হচ্ছে, তখন তিনি আশার আলো দেখতে পান। বছরের শুরুতে এই উদ্যোক্তা ১০ হাজার সাইকেল কিনে নেন এবং সেগুলো মিয়ানমারে নিয়ে আসেন।

মাইকের প্রত্যাশা, তার উদ্যোগের ফলে শিশুরা স্কুলে বেশি সময় কাটাতে পারবে, এতে করে তাদের শিক্ষায় পূর্ণতা আসবে এবং দারিদ্রতা থেকে মুক্তি ঘটবে। তিনি জানান, প্রতিটি সাইকেল দেশে নিয়ে আসা ও বিতরণসহ খরচ পড়েছে ৩৫ ডলার। তিনি অর্ধেক খরচ দিয়েছেন আর বাকিটা এসেছে স্পন্সরদের কাছ থেকে।

ইয়াঙ্গুনে লেসওয়াকে’র প্রথম যাত্রা শুরু হয়েছে। এই মাসের শেষে মান্দালয় ও সাগায়েং অঞ্চলে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। ১৩-১৬ বছরের শিক্ষার্থী যারা স্কুল থেকে দুই কিলোমিটার দূরে বাস করে তারাই প্রথমে সাইকেল পাবে।

তায়ে সু ওয়াই’র স্কুলের প্রধান শিক্ষক নি নি উইন বলেন, বেশিরভাগ অভিভাবক দরিদ্র। অনেক শিশুর ছাতাই নেই। বৃষ্টির সময় নিজেদের রক্ষা করতে তারা প্লাস্টিকের টুকরো ব্যবহার করে।

মাইক জানান, এটা মাত্র শুরু। আগামী পাঁচ বছরে ১ লাখ সাইকেল বিতরণ করা হবে। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে এসব সাইকেলের কোনও মূল্য হয়ত নেই, কিন্তু একটি দরিদ্র দেশে এগুলোর অনেক মূল্য রয়েছে।

 

/এএ/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম