পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে পদত্যাগে দুই দিনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা রবিবার রাতে পার হয়েছে। তবু জমিয়তে উলেমা-ই-ইসলামের নেতৃত্বে অবস্থান কর্মসূচি চলমান রয়েছে। দলটির নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান বলেছেন, অবস্থান চলবে। সরকারের পদত্যাগ ছাড়া ফেরার কোনও উপায় নেই। সোমবার দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এ খবর জানিয়েছে।
অর্থনৈতিক দুর্ভোগের অভিযোগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পদত্যাগের দাবিতে এ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলেমা-ই-ইসলাম। দলটির প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে রাজধানী ইসলামাবাদে ‘আজাদি মার্চে’ অংশ নিচ্ছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। পরে আন্দোলনে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের অনুসারীসহ অন্যান্য সমমনা ধর্মীয় দলও অংশ নিয়েছে। কয়েকশ’ গাড়ি নিয়ে গত রবিবার এ বিক্ষোভ শুরু হয়। সরকার অনুমোদিত উন্মুক্ত স্থানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে অবস্থান নিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। এখানে দলীয় পতাকা নাড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছেন তারা। ইমরান খানকে পদত্যাগের জন্য রবিবার (৩ নভেম্বর) পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২ নভেম্বর) ফজলুর রহমান আলটিমেটাম দিয়েছিলেন, রবিবারের মধ্যে ইমরান পদত্যাগ না করলে বিক্ষোভকারীদের নিয়ে তিনি রেড জোনে প্রবেশ করবেন। কোনও চাপেই তিনি নতি স্বীকার করবেন না। তবে রবিবার মধ্যরাতে সময়সীমা পার হয়ে গেলেও অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়নি। বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করার আগ পর্যন্ত অবস্থান চলবে বলে জানানো হয়েছে।
৬৬ বছরের মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, আমাদের অবস্থান সঠিক। পিছু হটে যাওয়া পাপ হবে এবং পিছু হটার উপায় নেই। এটিই আমাদের প্রথম পরিকল্পনা, আমাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পরিকল্পনা রয়েছে।
জমিয়ত নেতা বলেন, আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আমরা সরবো না। এই জনসমুদ্র এখানেই থেমে যাবে না। আগামীতে আমরা পুরো দেশ অচল করে দেবো। সরকারের পদত্যাগ ছাড়া আমরা কিছুতেই ফিরে যাবো না।
তবে মাওলানা ফজলুল রহমান বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন এবং রাজধানীর ডি-চক এলাকায় প্রবেশের চেষ্টার কোনও ইঙ্গিত দেননি। তিনি বলেন, ডি-চক এলাকায় জায়গা বেশি নেই। এমনকি এই উন্মুক্ত স্থানেও সবার স্থান সংকুলানে কষ্ট হচ্ছে। তবে আমরা যদি সিদ্ধান্ত নিই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে প্রবেশ করবো, তাহলে কেউ ঠেকাতে পারবে না। আমরা এখানে কিছু করতে বা মরতে এসেছি।
রবিবার মধ্যরাতে আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় সোমবার সর্বদলীয় নেতাদের বৈঠক ডেকেছে জমিয়ত। বৈঠকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হবে।








