ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সমালোচনাকারী লেনি রব্রেডোকে। রবিবার তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণে রাজি হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে তাকে সরিয়ে দিলেন দুয়ার্তে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর জানিয়েছে।
২০১৬ সালের মাঝামাঝি দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন দুয়ার্তে। এই অভিযানে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ছোটখাটো মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে হত্যা করা হয়েছে এবং আত্মসমর্পণ করেচে ১৩ লাখ। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি। পুলিশের বিরুদ্ধে নিরাপরাধ ও নিরস্ত্র মানুষকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
ফিলিপাইনে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পৃথক ভোটে নির্বাচিত হন। ৬ নভেম্বর দেশটির চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের আন্তঃবাহিনীর সমন্বয়ক প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণে রাজি হন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে সতর্ক করে বলেছিলেন, মাদকবিরোধী যুদ্ধের সমালোচনা করায় এই দায়িত্ব দিয়ে তাকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে, যাতে করে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।
এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি সালভাদর মেডিয়ালডিয়া সংবাদমাধ্যমে পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় রব্রেডোকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সিএনএন ফিলিপাইন এক খবরে জানিয়েছিল, দুয়ার্তে মুখপাত্র বলেছেন রব্রেডোকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
এই বিষয়ে রব্রোডের মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।
দায়িত্ব গ্রহণে রাজি হওয়ার সময় রব্রেডো বলেছিলেন, অনেকেই আমাকে সতর্ক করে বলছেন এটি কপট প্রস্তাব। কারণ আমাকে অবমাননা ও লজ্জায় ফেলতে এটি ফাঁদ হতে পারে। বলা হচ্ছে, এই প্রস্তাব দিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে এবং সংস্থাগুলো আমার নির্দেশ মানবে না। আমি যাতে সফল না হই সেজন্য সম্ভাব্য সবকিছু করা হবে। তবে আমি এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত।
এই রাজনীতিক আরও বলেছিলেন, যদি আমি কোনও একটি নির্দোষ জীবন বাঁচাতে পারি তাহলে আমার নীতি ও মন বলে সেই চেষ্টা করা উচিত।








