রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। ভারত ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এই দোলাচল স্পষ্ট হয়েছে। কলকাতাভিত্তিক বাংলা সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে সাউথ ব্লকের দোলাচল আবার দেখা গেছে উভয় দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে।
খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ঢাকার পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে অনুরোধ করা হয়েছিল, বাংলাদেশে অবস্থানরত ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার যাতে ফিরিয়ে নেয়, সেজন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য। কিন্তু শনিবার পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রীংলা ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব ইউ সো হান-এর বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করতে দেখা যায়নি নয়াদিল্লিকে।
বৈঠকে রাখাইন প্রদেশে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো নিয়ে দুই পররাষ্ট্র সচিবের আলোচনা হয়েছে। জাপানের সঙ্গে ভারতের সহযোগিতায় সেখানে ১৫টি স্কুল তৈরির কথাও হয়েছে। কিন্তু বৈঠকের পরে নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের কক্সবাজারের শিবির থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া নিয়ে কোনও কথা বলা হয়নি।
এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, ‘রাখাইন প্রদেশের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে কথা হয়েছে।’
সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের (জেসিসি) বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, জোর করে তাড়িয়ে দেওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবর্তনের গুরুত্বের দিকটি দুই মন্ত্রীই তুলে ধরেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে বলেছিলেন, ঢাকা আশা করছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে ভারত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে মিয়নমারে ফেরানোর প্রশ্নে অর্থপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।








