আর্মেনিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘাতে নাগোরনো-কারাবাখে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কাছ থেকে কারাবাখের গুরুত্বপূর্ণ একটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আজারবাইজান। রবিবার এই দাবি করেছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পুরনো সংঘাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে আবার শুরু হয়। এরইমধ্যে সংঘাতে প্রাণহানি হয়েছে প্রায় দুই হাজার মানুষের। সংঘাত নিরসনে রাশিয়ার উদ্যোগে আর্মেনিয়া-আজারবাইজান দুটি অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে পৌঁছার পরও লড়াই থামেনি। সবশেষ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা চালানো হয়। এর অংশ হিসেবে তৃতীয় দফার অস্ত্রবিরতিতে পৌঁছায় দুই দেশ। সেটিও ব্যর্থ হলে পুনরায় অস্ত্রবিরতির আলোচনায় বসলেও কোনও সমঝোতা হয়নি।
রবিবার আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট জানান, কারাবাখের শুশা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আজেরি সেনাবাহিনী। আর্মেনীয়দের কাছে শহরটি শুশি নামে পরিচিত। তবে আর্মেনিয়া নিয়ন্ত্রণ হারানোর কথা অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, এখনও সংঘর্ষ চলছে।
শুশা হচ্ছে কারাবাখের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর। গত কয়েক দিন ধরেই শহরটি ঘিরে রেখেছিল আজারবাইজানের সেনাবাহিনী।
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আজেরি সেনাবাহিনী শুশা শহরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। বহু বছর পর এখন সেখানে আজানের ধ্বনি শোনা যাবে।
এর আগে তিনি কারাবাখের ৯টি গ্রাম পুনরুদ্ধারের খবর দিয়েছিলেন। এসব গ্রাম ও শহর আর্মেনিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
উল্লেখ্য, নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভেতরে অবস্থিত হলেও ইয়েরেভান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এই সংঘর্ষে ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে ২০১৬ সালের শুরুতেও সংঘাতে জড়ায় দুই পক্ষ।








