নতুন নির্বাচিত পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরুর আগ মুহূর্তে সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে চীন। সোমবার বেইজিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনা মুখপাত্র জানিয়েছেন, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আরও তথ্য অনুসন্ধান করা হচ্ছে। মিয়ানমারে চীনের প্রতিবেশি বন্ধু আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামো অনুসরণ করে দেশটি অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিরসনে সক্ষম হবে বলে আশা করছে বেইজিং। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম দ্য গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি এবং ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আটক করা হয়। রাজধানী নেপিডো ও প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় রাস্তায় টহল দিতে শুরু করে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। এরপর সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যুত্থানের খবর নিশ্চিত করে সেনাবাহিনী। সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন টেলিভিশনে ঘোষণা করা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ সিনিয়র জেনারেল মিং অং হ্লাংয়ের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে।
মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের খবর সামনে আসার পর বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন। সেখানে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশি চীন, আর আমরা আশা করছি মিয়ানমারের সব পক্ষ সংবিধান এবং আইন অনুসরণ করে ভালোভাবেই মতপার্থক্য নিরসন করতে পারবে এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার রক্ষাকবচ হতে পারবে।’
বিশেষজ্ঞদের বরাতে গ্লোবাল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলকে দেশটির ভারসাম্যহীন ক্ষমতা কাঠামোয় সামঞ্জস্যতা আনার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মিয়ানমারের বর্তমান এবং সাবেক সেনা সরকার উভয়ের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে চীন। আর বর্তমানে বেইজিংয়ের প্রত্যাশা উভয় পক্ষ শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি সমাধানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। তবে কোনও বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপকে চীন সমর্থন করবে না।








