পুলিশের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার মিয়ানমারের উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত সব শহরে আবারও জড়ো হয়েছে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। রাজধানী ইয়াঙ্গুনের দুইটি স্থানে সমবেত হয়ে অভ্যুত্থান বিরোধী স্লোগান চালিয়ে যাওয়া ছাড়াও মান্দালয় শহরের শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছে হাজার হাজার মানুষ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, মিয়ানমারে চলমান বিক্ষোভ আর নাগরিক অসহযোগ আন্দোলন সামাল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শহরে টানা বিক্ষোভ চলছে। সংখ্যালঘু গোষ্ঠী, কবি, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামরিক শাসন অবসানের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। অভ্যুত্থানবিরোধীরা সর্বশেষ নির্বাচনে জয়ী নেত্রী অং সান সু চি’র মুক্তিরও দাবি জানাচ্ছেন। এর আগে মাথায় গুলিবিদ্ধ এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে গত শনিবার দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালায়ে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ছোড়া গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়।
পুলিশি অভিযানের পরদিনই রবিবার সকালে মান্দালয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করেছে লাখ লাখ মানুষ। উত্তরের শহর মাইতিককাইনাতে মানুষ নিহত বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। গত কয়েক দিনে এই শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হলেও রবিবার তরুণেরা অভ্যুত্থানবিরোধী ব্যানার নিয়ে মোটরবাইক মিছিল করেছে। এছাড়া মধ্যাঞ্চলীয় শহর মনিওয়া ও বাগান এবং দক্ষিণের শহর দাওয়েই ও মাইয়েক শহরেও বড় আকারের বিক্ষোভ হয়েছে।
মান্দালয়ের এক তরুণ বিক্ষোভকারী বলেন, ‘তারা নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। তারা আমাদের ভবিষ্যতকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।’
সেনা সরকারের বলপ্রয়োগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জাও মিন তুন। তবে গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সংবিধান অনুসরণ করেই কাজ করছে আর বেশিরভাগ মানুষ সমর্থন করছে। সহিংসতার জন্য তিনি বিক্ষোভকারীদের দায়ী করেন।









