যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত কিউ জাওয়ার মিনকে তলব করেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি-র মুক্তি দাবি করায় তাকে তলবের এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
রাষ্ট্রদূত কিউ জাওয়ার মিন বিবিসিকে বলেছেন, তার দেশ এরইমধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং মিয়ানমার একটি গৃহযুদ্ধের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
রাষ্ট্রদূত কিউ জাওয়ার মিন নিজেও সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক সদস্য। সোমবার এক বিবৃতিতে সু চি-র মুক্তি দাবি করেন তিনি। ‘সাহস ও দেশপ্রেমের’ জন্য ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব-এরও প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই বর্মি কূটনীতিক।
বিবিসি বার্মিজ সার্ভিসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত কিউ জাওয়ার মিন জানিয়েছেন, বিক্ষোভগুলোতে ক্রমবর্ধমান হতাহতের ঘটনার পর তিনি এই বিবৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কিউ জাওয়ার মিন বিবিসিকে বলেন, ‘আমি মিয়ানমারের নাগরিকদের মরতে দেখতে চাই না। আমি সব পক্ষকে (প্রতিবাদকারী ও সামরিক বাহিনী) নিবৃত্ত হওয়ার অনুরোধ করছি। এরইমধ্যে অনেক বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে। আমি শান্তি চাই।
সু চি-র পক্ষে নিজের অবস্থানের পুনরাবৃত্তিও করেন কিউ জাওয়ার মিন। তিনি বলেন, ‘সু চি আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন এবং আমি তার আদেশ পালন করবো। আমি তার ও প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্ট-এর মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। এর সমাধান নিউ ইয়র্ক বা লন্ডনে নয়, নেপিদোতেই (মিয়ানমারের রাজধানী) এর সমাধান নিহিত রয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিক্ষোভ চলছে। নাগরিক অসহযোগ আর নিয়মিত বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়েছে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশটি। বিক্ষোভ দমনে সামরিক সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক নিহতের কথা জানা গেছে। ধরপাকড়ের শিকার হয়েছে এক হাজার ৭০০-এরও বেশি মানুষ। এমন পরিস্থিতিতেই সু চি-র মুক্তির দাবি জানালেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত কিউ জাওয়ার মিন।
এদিকে ক্ষমতা দখল ও বিক্ষোভকারীদের দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী পরিচালিত ব্যবসায় বিস্তৃত আকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। কূটনীতিক ও দুটি অভ্যন্তরীণ নথির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য ফাঁস করেছে। ইইউ-এর গত ৫ মার্চের এক নথিতে বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর আয় হয় বা তাদেরকে আর্থিকভাবে সহায়তা করে’ এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে আগামী ২২ মার্চ ইইউ’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একমত হতে পারেন।
নথি থেকে জানা গেছে, সেনা পরিচালিত মিয়ানমার ইকোনোমিক হোল্ডিংস লিমিটেড (এমইএইচএল) ও মিয়ানমার ইকোনোমিক করপোরেশনের (এমইসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা খনি থেকে খাবার উৎপাদন পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকিং ও টেলিযোগাযোগ ব্যবসাতেও জড়িত। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস দেশটির পার্লামেন্টে বলেছেন, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে ইইউ’র অর্থনৈতিক অবরোধের অংশ হিসেবে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপের মুখে থাকলেও দৃশ্যত চীনের সমর্থন পাচ্ছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। ফলে দেশটিতে চীনবিরোধী মনোভাবও ক্রমেই বেড়েই চলেছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে চীনা পণ্য বয়কটের একটি আহ্বান অর্ধলক্ষাধিক বার শেয়ার হয়েছে।









